এশিয়ার রক্তক্ষরণের মাঝেও বিরাট স্বস্তি! কোন জাদুবলে ধস এড়াল ভারতীয় শেয়ার বাজার?

ভারতীয় শেয়ার বাজার আজ সকাল থেকেই চমৎকারভাবে স্থিতিশীল রয়েছে এবং একটি নির্দিষ্ট সুনির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। সোমবার টানা ৭৭৬ পয়েন্টের শক্তিশালী ও দুর্দান্ত উত্থানের পর আজ সেনসেক্স ৭৬,৮৩৫ পয়েন্টের ঘরে দৃঢ় অবস্থান বজায় রেখে লেনদেন চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, গতকাল ২২৮.৫০ পয়েন্ট চাঙ্গা হওয়ার পর নিফটি আজ ২৩,৯৫০ থেকে ২৩,৯৯০ পয়েন্টের একটি সুনির্দিষ্ট রেঞ্জের মধ্যে নিজেদের গতি বজায় রেখেছে। বিশ্বজুড়ে যখন অন্যান্য প্রধান বাজারগুলি চরম চাপের মুখে, ঠিক সেই সময়ে ভারতীয় বাজারের এই প্রতিরোধ ক্ষমতা বিনিয়োগকারীদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
আজ এশীয় বাজারের ব্যাপক বিপর্যয় ও রক্তক্ষরণ থেকে ভারতীয় শেয়ার বাজার রক্ষা পাওয়ার প্রধান কারণ হলো—আন্তর্জাতিক বাজারে রাতারাতি অপরিশোধিত তেলের দাম ৮.৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়া। তেল আমদানির উপর অতিরিক্ত মাত্রায় নির্ভরশীল ভারতের মতো উদীয়মান অর্থনীতির একটি দেশের জন্য এই ঘটনা এক বিশাল স্বস্তি নিয়ে এসেছে। এর পাশাপাশি, প্রযুক্তি খাতের শেয়ারগুলো থেকেও বাজার দারুণ সমর্থন পেয়েছে। বিশ্বখ্যাত ব্রোকারেজ সংস্থা জেফরিজ কর্তৃক ভারতীয় আইটি খাতের রেটিং ‘আন্ডারওয়েট’ থেকে বাড়িয়ে ‘নিউট্রাল’-এ আপগ্রেড করার পর, ইনফোসিস, টিসিএস এবং উইপ্রোর মতো প্রথম সারির শেয়ারগুলোতে প্রচুর পরিমাণে ক্রেতাদের আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে, যা সামগ্রিক বাজারকে পতন থেকে রক্ষা করতে বড় ভূমিকা পালন করেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমায় এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হলেও, আজকের এশীয় বাজারগুলো চরম অস্থিতিশীলতার মধ্য দিয়ে গেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক সবচেয়ে বড় ধসের মুখোমুখি হয়েছে, যা ৭.৪১ শতাংশের বেশি কমে সরাসরি তিন মাসের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গেছে। এছাড়া জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ৪.১৪ শতাংশ এবং টপিক্স সূচক ২.৯১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচকের ফিউচার ২৫,২০৭.১৮ পয়েন্টের পূর্ববর্তী ক্লোজিং থেকে কমে ২৫,২৯৯-এ এসে থেমেছে। বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর স্টকগুলিতে চলমান ব্যাপক বিক্রির চাপই এই পতনের অন্যতম মূল কারণ।
মার্কিন শেয়ার বাজারের ক্ষেত্রেও মঙ্গলবার সকালে বেঞ্চমার্ক স্টক ফিউচার নিম্নমুখী ছিল। বিনিয়োগকারীরা মেগাক্যাপ কোম্পানিগুলির ত্রৈমাসিক আয় এবং ফেডারেল রিজার্ভের আসন্ন সুদের হার সংক্রান্ত নীতির ঘোষণার দিকে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। আজ ডাও জোন্স ফিউচার ৪০ পয়েন্ট বা ০.০৮ শতাংশ কমেছে, এসএন্ডপি ৫০০ ফিউচার ০.০৯ শতাংশ এবং নাসডাক ১০০ ফিউচার ০.৩৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে, সোমবার ওয়াল স্ট্রিটের লেনদেনে একটি মিশ্র প্রবণতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে সাময়িক বিরতি এবং তেলের দাম পতনের জেরে ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ২৬২.৮৩ পয়েন্ট বা ০.৫১ শতাংশ বেড়ে ৫২,২১০.০৮ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছিল। তবে সেমিকন্ডাক্টর ও প্রযুক্তি খাতের শেয়ারে ব্যাপক বিক্রির চাপে নাসডাক কম্পোজিট ০.১৮ শতাংশ কমে ২৪,৯৩২.০৮ পয়েন্টে নেমে গিয়েছিল।
অপরিশোধিত তেলের বাজারে পতনের ধারা আজ অব্যাহত রয়েছে। ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের ফিউচার ০.৯৮ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৮১.৮০ ডলারে নেমে এসেছে। পাশাপাশি, আগস্ট ডেলিভারির ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার ০.৭০ শতাংশ কমে ৮৭.৭৪ ডলারে লেনদেন হচ্ছে, যা ৯০ ডলারের মনস্তাত্ত্বিক গুরুত্বপূর্ণ স্তরের অনেকটাই নিচে অবস্থান করছে। কমেক্স অপরিশোধিত তেলের দামও ১.০৪ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৮১.৭৪ ডলারে নেমেছে। অন্যদিকে, মার্কিন ডলার সূচক (DXY) আজ ০.০৩ শতাংশ সামান্য কমে ১০১.৫০-এ লেনদেন হলেও এটি এক মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে তার সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি শক্তিশালী রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ সব সময়ই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এই প্রতিবেদন কেবলমাত্র বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রদানের উদ্দেশ্যে প্রকাশিত, তাই বাজারে যেকোনো ধরনের লগ্নি করার আগে অবশ্যই পেশাদার আর্থিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।