বাংলা সিনেমার মুকুটে নতুন রত্ন! জাতীয় পুরস্কার পেয়ে আনন্দে আত্মহারা খুদে শিল্পীরা, কী বলছেন নির্মাতারা?

৭২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় ফের একবার উজ্জ্বল হয়ে উঠল বাংলার নাম। এবারের জাতীয় পুরস্কারের আসরে বাংলা ছবির মুকুটে যুক্ত হলো অত্যন্ত গৌরবের নতুন এক পালক। জাতীয় স্তরের এই প্রতিযোগিতায় নিজেদের অসামান্য মুন্সিয়ানা ও গভীর ছাপ রেখে বাংলার চলচ্চিত্র জগতকে গর্বিত করেছে দুটি ভিন্ন স্বাদের বাংলা ছবি—খ্যাতনামা পরিচালক অঞ্জন দত্তের ‘চালচিত্র এখন’ (Chaalchitra Ekhon) এবং প্রতিশ্রুতিমান পরিচালক সৌরভ পালোধি পরিচালিত সংবেদনশীল ছবি ‘অঙ্ক কি কঠিন’ (Onko Ki Kothin)। বাংলা সিনেমার এই ঐতিহাসিক সাফল্যের খবর প্রকাশ্যে আসতেই স্বভাবতই বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছেন বাংলার আপামর সিনেপ্রেমী মানুষ ও শিল্পীরা।

বিশেষ করে সৌরভ পালোধির প্রশংসিত ছবি ‘অঙ্ক কি কঠিন’ বাংলা সিনেমার ঝুলিতে যে অভাবনীয় সাফল্য এনে দিয়েছে, তা বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই চলচ্চিত্রে অভিনয় করা খুদে ও প্রতিভাবান শিশুশিল্পীরা তাদের অসাধারণ ও হৃদয়গ্রাহী অভিনয়ের সুবাদে জাতীয় পুরস্কার ছিনিয়ে এনেছে। ছবির তিন প্রধান শিশুশিল্পী ঋদ্ধিমান ব্যানার্জি, গীতশ্রী চক্রবর্তী ও তপময় দেবের এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার অর্জন সমগ্র রাজ্যকে এক অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। ছবিটির শুটিং ও পেছনের গল্প নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পরিচালক সৌরভ পালোধি জানান যে, তথাকথিত বড় কোনো নামজাদা তারকা শিল্পী ছাড়াই কেবল থিয়েটার থেকে অডিশন নিয়ে এই কাজ সম্পন্ন করা হয়েছিল। এই প্রাপ্তি তাঁদের কাজের সাহস ও উৎসাহকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

ছবির অন্যতম শিশুশিল্পী ঋদ্ধিমান ব্যানার্জি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে। সে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে জানায়, যখন সে প্রথম এই পুরস্কারের খবর জানতে পারে, তখন সে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েছিল। খবরটি শুনে তার মা ও দিদার চোখ দিয়ে আনন্দের জল গড়িয়ে পড়ে এবং বাড়ির সকলে মিলে এই মুহূর্তটিকে দারুণভাবে উপভোগ করছেন। পরিচালক ও দলের অন্যান্য সদস্যরাও তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং পুরো টিম মিলে এই বিশেষ জাতীয় পুরস্কার উদ্‌যাপন করার জন্য একটি বড় গেট টুগেদারের পরিকল্পনা করছে।

অন্যদিকে, ‘অঙ্ক কি কঠিন’ ছবির প্রযোজক রাণা সরকার নিজের আনন্দ প্রকাশ করে বলেন যে এই বয়সে ছোট বাচ্চাগুলোর এত বড় প্রাপ্তি অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের বিষয়। ছোটদের নিয়ে সিনেমা তৈরি করার ইচ্ছে থাকলেও নানান প্রতিকূল পরিস্থিতি ও সাহসের অভাবে অনেক সময়ই তা হয়ে ওঠে না, কিন্তু এক্ষেত্রে সমস্ত প্রতিকূলতা পেরিয়ে সফলভাবে কাজটি সম্পন্ন হয়েছে। পরিচালক সৌরভ পালোধি মনে করেন, এই সম্মান তাঁদের পিঠ চাপড়ে দেওয়ার সমান। খুদেরা এই পুরস্কারের মাহাত্ম্য হয়তো এই বয়সে পুরোপুরি বুঝতে পারছে না, তবে এই সফলতার সম্মান রক্ষা করতে শেখাটাই এখন সবচেয়ে বড় পাওনা।