“দিনে ৩০০ টাকা জমিয়েই হাতে পাবেন ১৫ লক্ষ!”-পোস্ট অফিসের সুপারহিট স্কিম সম্পর্কে জেনেনিন

বর্তমানের বাজারে বিনিয়োগের নানা বিকল্প থাকলেও অধিকাংশ জায়গাতেই ঝুঁকির পরিমাণ অত্যন্ত বেশি। তাই যাঁরা একফোঁটাও ঝুঁকি না নিয়ে সুরক্ষিত উপায়ে নিশ্চিত রিটার্ন চান, তাঁদের প্রথম পছন্দ সবসময়ই পোস্ট অফিসের বিভিন্ন স্মল সেভিংস স্কিম। কেন্দ্র সরকারের এই প্রকল্পগুলিতে সামান্য পরিমাণ টাকা জমিয়েই বড় অঙ্কের তহবিল তৈরি করা সম্ভব। তেমনই একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও লাভজনক প্রকল্প হলো পোস্ট অফিস রেকারিং ডিপোজিট (Post Office RD) স্কিম। সঠিক নিয়মে বিনিয়োগ করলে এই স্কিম থেকেই দিনে মাত্র ৩০০ টাকা জমিয়ে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঘরে তুলতে পারেন সাধারণ মানুষ।

পোস্ট অফিস আরডি স্কিমের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ

  • জিরো রিস্ক বা শূন্য ঝুঁকি: মিউচুয়াল ফান্ডের এসআইপি-র (SIP) মতো এখানেও অল্প অল্প করে টাকা জমানোর সুযোগ রয়েছে। তবে এর সবথেকে বড় সুবিধা হলো, এটি সম্পূর্ণ শূন্য-ঝুঁকির সঞ্চয় প্রকল্প, কারণ খোদ কেন্দ্র সরকার এখানে আপনার জমানো টাকার ১০০ শতাংশ সুরক্ষার গ্যারান্টি দেয়।

  • ন্যূনতম ১০০ টাকায় অ্যাকাউন্ট: দেশের যে কোনও পোস্ট অফিসে মাত্র ১০০ টাকার প্রাথমিক বিনিয়োগ দিয়েই একটি নতুন আরডি অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। পাশাপাশি, এই স্কিমে বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে কোনও সর্বোচ্চ জমার সীমা নেই। নাগরিকরা তাঁদের সামর্থ্য ও ইচ্ছেমতো অর্থ বিনিয়োগ করতে পারেন।

  • সিঙ্গল ও জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট: পোস্ট অফিস আরডি-র আওতায় আপনি একা সিঙ্গল অ্যাকাউন্ট বা পরিবারের কারও সঙ্গে যৌথভাবে জয়েন্ট অ্যাকাউন্টও খুলতে পারেন।

  • আকর্ষণীয় সুদের হার: বর্তমানে এই স্কিমে বার্ষিক ৬.৭ শতাংশ হারে সুদ দেওয়া হচ্ছে।

  • মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা: এই সরকারি প্রকল্পের সাধারণ মেয়াদকাল ৫ বছর। তবে মেয়াদ ফুরোলে চাইলে এই স্কিম আরও ৫ বছরের জন্য বাড়িয়ে নেওয়া যায়, যার ফলে লং টার্মে সুদের পরিমাণ আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

কীভাবে জমবে ১৫ লক্ষ টাকা? রইল সম্পূর্ণ হিসাব

পোস্ট অফিস রেকারিং ডিপোজিট স্কিমের মাধ্যমে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার বিশাল ফান্ড তৈরি করতে চাইলে আপনাকে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের নিয়ম মেনে টাকা জমাতে হবে:

  • দৈনিক ও মাসিক সঞ্চয়: এই স্কিমে আপনাকে প্রতিদিন মাত্র ৩০০ টাকা করে জমাতে হবে। অর্থাৎ, প্রতি মাসে আপনার জমার পরিমাণ দাঁড়াবে ৯,০০০ টাকা (৩০০ × ৩০ দিন)।

  • প্রথম ৫ বছরের হিসেব: এভাবে প্রথম ৫ বছর বা ৬০ মাস নিয়মিত টাকা জমালে আপনার মোট জমার পরিমাণ হবে ৫ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা। এর ওপর সুদ বাবদ আপনি পাবেন ১ লক্ষ ২ হাজার ২৯১ টাকা।

  • মেয়াদ বাড়িয়ে ১০ বছর করলে: এই স্কিমের আসল ম্যাজিক দেখতে হলে ৫ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর বিনিয়োগের মেয়াদ আরও ৫ বছরের জন্য (মোট ১০ বছর) বাড়িয়ে নিতে হবে।

  • চূড়ান্ত ফান্ড: ১০ বছর মেয়াদে আপনার মোট জমার পরিমাণ হবে ১০ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। এর সঙ্গে ৬.৭ শতাংশ চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ বাবদ মিলবে ৪ লক্ষ ৫৭ হাজার টাকারও বেশি। সব মিলিয়ে ১০ বছর পর আপনার মোট রিটার্ন বা ফান্ড বেড়ে দাঁড়াবে ১৫,৩৭,৬৯২ টাকায়!

সামান্য সঞ্চয়কে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে কীভাবে একটি বড় আর্থিক সম্পত্তিতে পরিণত করা যায়, তার অন্যতম সেরা উদাহরণ এই পোস্ট অফিস আরডি স্কিম। তাই সুরক্ষিত ভবিষ্যতের কথা ভেবে সাধারণ মধ্যবিত্তের কাছে এটি হতে পারে অত্যন্ত লাভজনক এক পদক্ষেপ।