কাকদ্বীপের প্রতিমা ভাঙা কাণ্ডে চরম সংঘাত! সিবিআই তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে VHP, প্রতিবাদ মিছিলের অনুমতি চাইল বিজেপি

দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে দেবী মূর্তি ভাঙার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই স্পর্শকাতর ঘটনায় সিবিআই (CBI) তদন্তের আর্জি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে বিশ্বহিন্দু পরিষদ (VHP)। একইসঙ্গে, প্রতিবাদ মিছিল করার অনুমতি চেয়ে হাইকোর্টে মামলা করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চে বিশ্বহিন্দু পরিষদের পক্ষ থেকে জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। শীঘ্রই এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপিও আগামী ৩ নভেম্বর প্রতিবাদ মিছিলের অনুমতি চেয়ে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মামলা দায়েরের অনুমতি পেয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত এবং অবরোধ
গত বুধবার কাকদ্বীপের সূর্যনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর চন্দননগর নস্করপাড়ায় দেবী মূর্তি ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পরই এলাকায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। উত্তেজিত জনতা ভাঙা প্রতিমা নিয়ে ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়কে অবরোধ শুরু করে। তাতে বিজেপির কর্মী-সমর্থকরাও যোগ দেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে হারুড পয়েন্ট কোস্টাল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে বিক্ষোভকারীরা পাথর ছোড়া শুরু করে বলে রাজ্য পুলিশের দাবি। পুলিশ জানিয়েছে, অবরোধের কারণে অ্যাম্বুল্যান্স আটকে পড়েছিল। যদিও পরে পুলিশ কর্মীরা ভাঙা প্রতিমাটি উদ্ধার করে নিয়ে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
পাল্টা অভিযোগে চরম সংঘাত
পুলিশ এই ঘটনায় নারায়ণ হালদার নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে দাবি করেছে, তিনি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় এই কাজ করেছিলেন। তবে গ্রেফতারের পরও রাজনৈতিক চাপান-উতোর থামেনি।
তৃণমূলের অভিযোগ: রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বিজেপিই এই মূর্তি ভেঙে গ্রামে অশান্তি ছড়ানোর পরিকল্পনা করেছিল।
VHP-র দাবি: তৃণমূলের এই অভিযোগ এবং পুলিশের দ্রুত একজনকে গ্রেফতার করার ঘটনায় ভরসা না পেয়েই বিশ্বহিন্দু পরিষদ ঘটনার সত্য উদঘাটনের জন্য সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
সব মিলিয়ে, কাকদ্বীপের এই ঘটনা এখন আদালতের বিচারাধীন বিষয়ে পরিণত হওয়ায়, চলতি সপ্তাহে কলকাতা হাইকোর্টের শুনানিগুলি রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে।