এসবিআই ফান্ডস আইপিও: আজই চূড়ান্ত অ্যালটমেন্ট, কীভাবে চেক করবেন নিজের স্ট্যাটাস?

বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ চূড়ান্ত হচ্ছে এসবিআই ফান্ডস ম্যানেজমেন্টের আইপিও-র অ্যালটমেন্ট প্রক্রিয়া। যারা এই মেগা আইপিও-তে আবেদনের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য পরীক্ষা করেছেন, আজ জানা যাবে তাদের অ্যাকাউন্টে শেয়ার বরাদ্দ হয়েছে কি না। ৯,৮১২.৯১ কোটি টাকার এই বিশাল আইপিও-টি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছে। আগামী ২১ জুলাই বিএসই (BSE) এবং এনএসই (NSE)-তে শেয়ারটির তালিকাভুক্তির দিন ধার্য করা হয়েছে।
এসবিআই ফান্ডস ম্যানেজমেন্টের আইপিও ১৪ জুলাই থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত খোলা ছিল। বাজারে ব্যাপক চাহিদার কারণে এটি মোট ৪১.৬৬ গুণ সাবস্ক্রাইব হয়েছে। বিশেষ করে কিউআইবি (QIB) বা বৃহৎ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে, যাদের অংশ ১৪০.১১ গুণ সাবস্ক্রাইব হয়েছে। এছাড়া এনআইআই (NII) ২২.৫১ গুণ এবং খুচরা বিনিয়োগকারীদের অংশ ৩.৬০ গুণ সাবস্ক্রাইব হয়েছে। এই আইপিও-টি ছিল মূলত একটি ‘অফার ফর সেল’ (OFS), যেখানে এসবিআই এবং আমুন্ডি তাদের হাতে থাকা অংশীদারিত্ব বিক্রি করেছে। তালিকাভুক্তির পর পাবলিক হোল্ডিং ১০.২ শতাংশে উন্নীত হবে।
বিনিয়োগকারীরা অনলাইনে সহজেই তাদের অ্যালটমেন্ট স্ট্যাটাস চেক করতে পারেন। কেফিন টেকনোলজিস (KFin Technologies)-এর ওয়েবসাইট, এনএসই (NSE) এবং বিএসই (BSE)-এর অফিসিয়াল পোর্টালে গিয়ে প্যান (PAN) কার্ড অথবা অ্যাপ্লিকেশন নম্বর দিয়ে স্ট্যাটাস দেখা সম্ভব। যদি শেয়ার বরাদ্দ হয়ে থাকে, তবে তালিকাভুক্তির আগেই তা ডিম্যাট অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে।
গ্রে মার্কেটে (GMP) এই আইপিও-র অবস্থা বেশ আশাব্যঞ্জক। বর্তমানে এর জিএমপি প্রায় ৯৭ টাকা। অর্থাৎ, ৫৭৪ টাকার আপার প্রাইস ব্যান্ডের তুলনায় শেয়ারটি ৬৭১ টাকা বা তার আশেপাশে ১৭ শতাংশ প্রিমিয়ামে তালিকাভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিনিয়োগকারীদের মনে রাখা উচিত, জিএমপি বাজারের পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল এবং এটি নিয়মিত পরিবর্তনশীল।
এসবিআই ফান্ডস ম্যানেজমেন্ট ভারতের অন্যতম বৃহত্তম অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি। ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত তাদের মিউচুয়াল ফান্ড পোর্টফোলিওর পরিমাণ প্রায় ১২.৫ লক্ষ কোটি টাকা এবং মার্কেট শেয়ার ১৫.৩ শতাংশ। ১.৭৯৫ কোটি বিনিয়োগকারী এবং ১.৬২১ কোটি সক্রিয় এসআইপি অ্যাকাউন্টের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক কোম্পানিটিকে বাজারে এক বিশেষ শক্ত অবস্থানে রেখেছে। আর্থিক পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রেও কোম্পানিটি দুর্দান্ত সাফল্য দেখিয়েছে; ২০২৬ অর্থবর্ষে তাদের নিট মুনাফা ছিল ৩,০৬৭ কোটি টাকা এবং ইবিআইটিডিএ মার্জিন ছিল ৭৯.১ শতাংশ। রিটার্ন অন ইকুইটি (RoE) ৫১.৪ শতাংশ হওয়ার অর্থ হলো, কোম্পানিটি অত্যন্ত লাভজনক। এখন বিনিয়োগকারীদের নজর ২১ জুলাইয়ের দিকে, যেদিন স্টকটি বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করবে।