একমঞ্চে মিঠুন-জিত থেকে সন্দীপ রায়! মহানায়কের জন্মশতবর্ষ স্মরণীয় করে রাখতে বছরভর মেগা আয়োজনের পরিকল্পনা সরকারের

বাংলার চলচ্চিত্র জগতের অবিসংবাদিত কিংবদন্তি এবং ‘মহানায়ক’ উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে বছরব্যাপী একগুচ্ছ বর্ণাঢ্য কর্মসূচির ঐতিহাসিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বাংলা সিনেমার এই মেগাস্টারের বর্ণময় জীবন, অতুলনীয় অভিনয়শৈলী এবং ভারতীয় বিনোদন জগতে তাঁর অবদানের স্বর্ণোজ্জ্বল অধ্যায়গুলো নতুন প্রজন্মের কাছে আরও স্পষ্টভাবে পৌঁছে দিতে এই মেগা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই বিশেষ উৎসবকে সফল করতে রাজনৈতিক গণ্ডি ও মতপার্থক্য দূরে সরিয়ে টলিপাড়ার সমস্ত কলাকুশলীকে এক ছাতার তলায় আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিন এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের প্রাক্কালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “উত্তমকুমার হলেন আসল নায়কদের নায়ক, তাই বিশ্বজোড়া বাঙালি তাঁকে ভালোবেসে ‘মহানায়ক’ উপাধিতে ভূষিত করেছে। আমার আজ সত্যি সৌভাগ্য যে, তাঁর এই ঐতিহাসিক জন্মশতবর্ষ পালন করার সুযোগ একজন মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে আমার কপালে জুটেছে। ঈশ্বরের বিশেষ আশীর্বাদ ছাড়া এই সৌভাগ্য অর্জন করা কোনোভাবেই সম্ভব হতো না।” সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও মন্তব্য করেন যে, অতীতের সরকার যেখানে শুধু মহানায়কের প্রয়াণ দিবসেই ঢাক-ঢোল বাজাত, সেখানে বর্তমান সরকার তাঁর জন্মদিনে আড়ম্বরপূর্ণ উৎসব পালন করবে এবং প্রয়াণ দিবসে প্রকৃত শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করবে।

রাজ্য সরকারের এই বিশেষ আয়োজনে সংস্কৃতির জগতের প্রায় দেড় শতাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এদিনের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সন্দীপ রায়, মিঠুন চক্রবর্তী, জিতের মতো টলিউডের প্রথম সারির তারকারা থেকে শুরু করে মুনমুন সেনের মতো প্রবীণ ব্যক্তিত্বরাও। বৈঠক থেকেই অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করা হয়েছে যে, আগামী ৩২তম আন্তর্জাতিক কলকাতা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল এ বছর আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হবে। চলচ্চিত্রের এই মহাযজ্ঞে সারা দেশের নামী শিল্পীদের আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা চলছে।

বৈঠক শেষে বিশিষ্ট অভিনেত্রী ও বিধায়ক রূপা গাঙ্গুলি সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আমাদের তথ্য ও সংস্কৃতির একটি সুনির্দিষ্ট কমিটি রয়েছে, এবং এদিনের এই অনুষ্ঠানে তাঁরা সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছিলেন। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো সমস্ত রাজনৈতিক ভেদাভেদ ও মতাদর্শের দেয়াল ভেঙে একত্রিতভাবে বাংলা সিনেমার এই মহানায়কের স্মৃতির উদ্দেশ্যে কাজ করা। এই জন্মশতবর্ষ কীভাবে বছরভর জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপিত হবে, তা নিয়েই বিশদ আলোচনা হয়েছে।” অন্যদিকে জনপ্রিয় অভিনেতা ও বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ যোগ করে বলেন, “উত্তমকুমার তাঁর কর্মের মাধ্যমে গৌরবের এমন এক চূড়ায় দাঁড়িয়ে আছেন যা অদ্বিতীয়। আগামী ৩ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর তাঁর ১০০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সারা পশ্চিমবঙ্গজুড়ে এক অভাবনীয় উৎসব পালিত হবে। যেহেতু উত্তমকুমারের সচল বিচরণ কেবল বাংলায় নয়, সুদূর মুম্বইয়ের চলচ্চিত্র জগতেও ছিল, তাই আমাদের লক্ষ্য থাকবে যাতে শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, সারা ভারতবর্ষ যেন এই শতবর্ষের উৎসবকে একটি ঐতিহাসিক নজির হিসেবে চিরকাল মনে রাখে।”

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty