স্বাধীনতার ঠিক আগে রক্তগঙ্গার হুমকি! দিল্লি জুড়ে লাল কেল্লা ও বিমানবন্দর উড়িয়ে দেওয়ার চক্রান্তে তোলপাড় প্রশাসনিক মহল

পবিত্র স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের প্রাক্কালে সমগ্র দেশ যখন উৎসবের আমেজে মেতে উঠেছে, ঠিক সেই মুহূর্তেই দেশের রাজধানী দিল্লি জুড়ে এক বিরাট ও চাঞ্চল্যকর নাশকতার হুমকি ঘিরে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গোয়েন্দা ও প্রশাসনিক সূত্রে প্রাপ্ত অত্যন্ত সংবেদনশীল খবর অনুযায়ী, আসন্ন স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন দিল্লির একাধিক অতিসংবেদনশীল এবং জনবহুল স্থানে অত্যন্ত শক্তিশালী বোমা রাখা হয়েছে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই তীব্র হুমকির তালিকায় রয়েছে ঐতিহাসিক লাল কেল্লা, দেশের অন্যতম ব্যস্ততম দিল্লি বিমানবন্দর এবং আরও বেশ কয়েকটি কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

অত্যন্ত বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গিয়েছে যে, কেবল লাল কেল্লা বা বিমানবন্দরই নয়, বরং একযোগে রাজধানীর বিভিন্ন হাই-প্রোফাইল স্থানে নাশকতার বার্তা পাঠানো হয়েছে। হুমকির তালিকায় নাম রয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট, জনবহুল ঝান্ডেওয়ালা ভবন, এম বি সাকেত অফিস এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট এলাকারও। অজ্ঞাতপরিচয় কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে ফোন করে সুনির্দিষ্টভাবে এই স্থানগুলিতে বিস্ফোরক লুকিয়ে রাখার হুমকি দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের পর গোয়েন্দা মহলের একটি সূত্র দাবি করেছে যে, এই নাশকতার হুমকি ফোনগুলির পেছনে কোনো নিষিদ্ধ খলিস্থানি সংগঠনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ হাত থাকতে পারে।

এই ধরনের ভয়াবহ ও বিশদ হুমকি বার্তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নড়েচড়ে বসেছে দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং দিল্লি পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা। রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাতারাতি আরও অনেক বেশি আঁটোসাঁটো করা হয়েছে। প্রতিটি সংবেদনশীল পয়েন্টে মেটাল ডিটেক্টর, অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী এবং সশস্ত্র কম্যান্ডো মোতায়েন করা হয়েছে। লাল কেল্লা চত্বর এবং দিল্লি বিমানবন্দর সহ প্রতিটি হুমকিমূলক স্থানে ইতিমধ্যেই বোম্ব স্কোয়াড ও ডগ স্কোয়াড দিয়ে কঠোর তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। প্রতিটি গাড়িতে নিবিড় তল্লাশি চালানো হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের চলাচলের ওপরও কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে। প্রশাসন পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, স্বাধীনতা দিবসের উৎসবের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না এবং যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরাপত্তা বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।