নালসার পড়ুয়াদের নিয়ে বড় রায় সুপ্রিম কোর্টের! বার কাউন্সিলের কড়া পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কড়া হুশিয়ারি প্রধান বিচারপতির

নালসার বিশ্ববিদ্যালয় বা দেশের যেকোনো নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করা আইন স্নাতকদের বিরুদ্ধে বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া কিংবা রাজ্য স্তরের বার কাউন্সিলগুলি কোনোভাবেই কোনো ধরনের শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এদিন অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় নির্দেশ দিয়ে বলেছেন যে, ছাত্রছাত্রীদের শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ দেখানোর পূর্ণ গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে। ফলে সমাবর্তন অনুষ্ঠান ঘিরে প্রতিবাদের জেরে কোনো পড়ুয়ার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক বা কড়া পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না।
উল্লেখ্য, গতকালই হায়দ্রাবাদের বিখ্যাত নালসার আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া দুটি বিতর্কিত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। ওই বিজ্ঞপ্তির একটিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, নালসার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যাঁরা এ বছর আইনের স্নাতক হিসেবে পাশ করবেন, তাঁরা আইনজীবী হিসেবে বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া-তে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন না। পাশাপাশি, যে পড়ুয়ারা সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতিকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন, তাঁদের চিহ্নিত করার জন্যও নালসার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে নির্দেশ দিয়েছিলেন বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান মনন কুমার মিশ্র। বার কাউন্সিলের এমন একপেশে ও স্বৈরাচারী নির্দেশের বিরোধিতায় গোটা দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে।
এই চরম অন্যায্য বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের পথে হেঁটে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে হায়দ্রাবাদে অবস্থিত নালসার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেই মামলার জরুরি ভিত্তিতে শুনানি গ্রহণ করে আজ নোটিস জারি করেছে শীর্ষ আদালত এবং বার কাউন্সিলের কাছে বিস্তারিত জবাব তলব করেছে। শুনানিপর্বে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়ে দেন যে, সমাবর্তন সংক্রান্ত যে অভ্যন্তরীণ সমস্যা তৈরি হয়েছে সেটি সম্পূর্ণভাবে তাঁর এবং ছাত্রছাত্রীদের নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ একটি বিষয়। এখানে অযথা বার কাউন্সিলের নাক গলানোর কোনো আইনি এক্তিয়ার বা অধিকার নেই।
বার কাউন্সিলের এহেন অতিউৎসাহী ভূমিকায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, পড়ুয়াদের যদি নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিবাদ বা বিক্ষোভ দেখানোর কোনো যৌক্তিক কারণ থাকে, তবে তাতে বার কাউন্সিলের বলার বা হস্তক্ষেপ করার কোনো অধিকার থাকতে পারে না। ছাত্রছাত্রীরা তাঁকে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন এবং তাঁদের সঙ্গে তাঁর নিজের আলোচনাও চলছে, ফলে এই জাতীয় পদক্ষেপের কোনো ন্যূনতম প্রয়োজনই ছিল না। অতীতের ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত আরও মন্তব্য করেন যে, নিজের ছাত্রজীবনে তিনি নিজেও সক্রিয় ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানের এই পড়ুয়ারা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের মতামত ও বিক্ষোভ প্রকাশ করছে, তাই তাদের দমাতে বাধা দেওয়ার কোনো কারণ থাকতে পারে না।