এনআরএসের নার্সের রহস্যমৃত্যুতে ঘনাচ্ছে রহস্য! কনুইয়ে সূচের দাগ ও নীলচে জিভ দেখে চিকিৎসকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ

নীলরতন সরকার বা এনআরএস (NRS) মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত এক তরুণী নার্সের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে সমগ্র রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য এবং উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালের মতো একটি সুরক্ষিত চত্বরে অন ডিউটি থাকা অবস্থায় এক স্বাস্থ্যকর্মীর এমন আকস্মিক ও অস্বাভাবিক মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তাঁর সহকর্মীরা। এই মর্মান্তিক ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত সত্য কী রয়েছে, তা উদঘাটন করতে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের কঠোর নির্দেশে ইতিমধ্যেই একটি ৮ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ফরেন্সিক মেডিসিনের অভিজ্ঞ বিভাগীয় প্রধানের নেতৃত্বাধীন এই বিশেষ কমিটি আগামী সাতদিনের মধ্যে রাজ্যের স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তার দপ্তরে একটি পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে বলে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ তথ্য খতিয়ে দেখে চিকিৎসকদের একাংশের প্রাথমিক অনুমান, অতিরিক্ত মাত্রায় শক্তিশালী ওষুধ বা ইনজেকশন প্রয়োগের ফলেই ওই নার্সের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। মৃত নার্স রূপালি বর্মনের মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্ট করতে ময়নাতদন্তের পাশাপাশি পুঙ্খানুপুঙ্খ ফরেন্সিক এবং প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার রিপোর্টের ওপর নির্ভর করছেন তদন্তকারীরা। প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মৃত্যুর পূর্বে অক্সিজেনের তীব্র অভাবে ওই নার্সের চোখের সাদা অংশ, নখ এবং জিভের একাংশ সম্পূর্ণ নীলচে বর্ণ ধারণ করেছিল। মূলত শ্বাসপ্রশ্বাসের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁর মৃত্যু ঘটে। তবে এই মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা আরও বেশি ঘনীভূত হয়েছে যখন দেখা গেছে যে মৃতার দুই কনুইয়েই একাধিক সূচ ফোটার স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। যদি এটি আত্মহত্যাই হয়ে থাকে, তবে কনুইয়ের মতো জায়গায় কীভাবে সূচ ফোটানো সম্ভব হলো, সেই প্রশ্নই এখন গোয়েন্দাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। পাশাপাশি, ঘটনাস্থল থেকে অচৈতন্য করার 강력 ওষুধ ফেন্টানিল এবং মিডাজোলামের একাধিক ভায়াল উদ্ধার হওয়ায় এই মৃত্যুরহস্য আরও গভীর হয়েছে।

ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের স্বার্থে এবার এনআরএস হাসপাতালের গাইনি সিবি বিল্ডিংয়ের অ্যান্টি নেটাল ওয়ার্ডের ক্লোজড সার্কিট টেলিভিশন বা সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত ১২ অগাস্ট সন্ধ্যা ৭টা থেকে ১৩ অগাস্ট সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের দীর্ঘ সিসিটিভি ফুটেজ খুঁটিয়ে দেখে ওই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওয়ার্ডে কার কার গতিবিধি ছিল, তা লিখিত আকারে অবিলম্বে স্বাস্থ্যভবনে পাঠাতে বলা হয়েছে। এছাড়া মৃত নার্স রূপালি বর্মন মৃত্যুর আগে যে নির্দিষ্ট শিফটে কর্মরত ছিলেন, সেই শিফটের প্রতিটি স্বাস্থ্যকর্মী ও সহকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁদের বয়ান রেকর্ড করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যভবনের পক্ষ থেকে আরও জানতে চাওয়া হয়েছে যে, মৃত নার্স ঠিক কোন উৎস থেকে ওই ইনজেকশনের ভায়ালগুলি সংগ্রহ করেছিলেন এবং ভায়ালগুলি নেওয়ার সময় হাসপাতালের নিয়ম মেনে কোনও রেজিস্টার মেইনটেইন করা হয়েছিল কি না। এই স্পর্শকাতর ঘটনার পর থেকে সংশ্লিষ্ট অ্যান্টি নেটাল ওয়ার্ডে ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা বাড়িয়ে ২ জন কনস্টেবলকে স্থায়ীভাবে মোতায়েন করা হয়েছে।