বরফ গলছে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে! ব্রিকস সামিটের আগেই কি দিল্লি সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান?

ভারত এবং বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দীর্ঘদিনের বরফ কি তবে অবশেষে গলতে শুরু করেছে? সাম্প্রতিক কূটনৈতিক মহলের খবর অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যকার পারস্পরিক টানাপোড়েন কাটিয়ে ফের সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত মিলছে। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, আগামী মাসে ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মর্যাদাপূর্ণ ব্রিকস সামিটের আগেই একটি বিশেষ দ্বিপাক্ষিক সফরে নয়াদিল্লি আসতে পারেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশ্বখ্যাত সংবাদমাধ্যম নিউজ ১৮-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর ও সম্ভাবনাময় তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। দিল্লি ও ঢাকার উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক মহলে বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী স্তরের এই সম্ভাব্য সাক্ষাত্‍ ও পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছে। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বসতে চলেছে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। এই মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক আসরে যোগ দেওয়ার জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী হিসাবে বিএনপি প্রধান তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি ও ভারতে চলে যাওয়ার পর থেকে দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সম্পর্কে নানা ওঠানামা ও অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই বরফ গলতে শুরু করেছে। নির্বাচনে জয়ের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। যদিও তিনি এর আগে মালয়েশিয়া ও চীন সফর করলেও এখনও ভারতে আসেননি। এরই মধ্যে দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর প্রক্রিয়া হিসেবে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদী সরাসরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে ভারতীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে তাঁকে উষ্ণ শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করার ও সহযোগিতার বার্তা দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকেই জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে যে, ব্রিকস সামিটের ঠিক আগে বা চলতি মাসের শেষভাগেই ভারত সফরে আসার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে এই সম্ভাব্য সফর নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty