‘আমার সন্তানের চিকিৎসার কী হবে?’ বিমান ধরতে না পেরে এয়ারপোর্টে তুলকালাম কাণ্ড বাধালেন যাত্রী, তোলপাড় নেটদুনিয়া

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওড়িশার ভুবনেশ্বরের বিজু পট্টনায়েক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক নজিরবিহীন এবং চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে জরুরি ভিত্তিতে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার জন্য বিমানবন্দর চত্বরে অপেক্ষা করছিলেন এক মহিলা যাত্রী। কিন্তু শেষ মুহূর্তে যান্ত্রিক ত্রুটির গুরুতর কারণ দেখিয়ে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের নির্ধারিত বিমানটি বাতিল ঘোষণা করা হয়। আর এর পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন ওই যাত্রী। আকস্মিক এই ঘোষণায় মেজাজ হারিয়ে তিনি বিমানবন্দরের ভেতরে তীব্র তাণ্ডব চালান এবং প্রায় ৪৯ হাজার টাকার বহুমূল্য সম্পত্তি ভাঙচুর করেন বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে এই ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়ে পড়েছে, যা নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
বিমানবন্দর থানায় দায়ের করা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত ওই মহিলা যাত্রীর নাম মামনি খারাত। তিনি ভুবনেশ্বর থেকে কলকাতা যাওয়ার জন্য ইন্ডিগোর 6E 7352 নম্বরের ফ্লাইটে আগে থেকেই টিকিট বুক করেছিলেন। নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী ফ্লাইটটির দুপুর ২টো বেজে ৩৫ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রথমে সময় পরিবর্তন করে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে যাত্রীদের জানানো হয় যে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ওই ফ্লাইটটি সম্পূর্ণরূপে বাতিল করা হচ্ছে।
হঠাৎ করে বিমান বাতিলের এই ঘোষণা শোনার পরেই প্রচণ্ড উত্তেজিত হয়ে পড়েন মামনি খারাত। সন্তানের অসুস্থতার কথা মাথায় রেখে তিনি নিজের মানসিক সংযম হারিয়ে ফেলেন এবং বিমানবন্দরে থাকা বিভিন্ন দাপ্তরিক সরঞ্জাম ভাঙচুর করতে শুরু করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর ভাঙচুরের জেরে বিমানবন্দরের যে সমস্ত সামগ্রী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে ২২,০০০ টাকা মূল্যের একটি কম্পিউটার মনিটর, ৪,০০০ টাকার একটি কম্পিউটার কি-বোর্ড এবং প্রায় ২৩,০০০ টাকা মূল্যের একটি পাসপোর্ট-সোয়াইপিং মেশিন। সব মিলিয়ে বিমানবন্দরের সম্পত্তির ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৪৯,০০০ টাকা বলে হিসাব করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ উপস্থিত হন সিআইএসএফ (CISF) জওয়ানরা, ইন্ডিগোর গ্রাউন্ড স্টাফরা, এয়ারপোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (AAI)-এর আধিকারিকরা এবং সিটা (SITA)-র কর্মীরা। তাঁরা অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে ওই ক্ষুব্ধ যাত্রীকে শান্ত করার এবং পরিস্থিতি বোঝানোর চেষ্টা চালালেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটিতে স্পষ্ট দেখা গিয়েছে যে, মামনি বিমানবন্দরের দায়িত্বরত কর্মীদের সঙ্গে একাধিকবার তীব্র তর্কবিতর্ক ও চরম দুর্ব্যবহার করছেন এবং হাতের কাছে যা পাচ্ছেন তা ভাঙচুর করছেন। এ সময় তাঁকে নিজের অসুস্থ সন্তানের চিকিৎসা সংক্রান্ত অসহায়তার কথা বারংবার বলতে শোনা যায়। তবে এই উত্তেজনার মাঝেও বিমানবন্দরের উপস্থিত অন্য বেশ কিছু যাত্রীকে তাঁর সমর্থনে এগিয়ে আসতে এবং সহানুভূতি প্রকাশ করতেও দেখা গিয়েছে।
গোটা ঘটনা প্রসঙ্গে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ওই যাত্রী নিজের অসুস্থ সন্তানের চিকিৎসার্থে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য অন্য কোনো বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা করার জোরালো অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তাঁর চরম মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে পরবর্তীতে তাঁকে অন্য একটি কানেক্টিং ফ্লাইটের মাধ্যমে কলকাতা যাওয়ার বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়। ভুবনেশ্বর বিমানবন্দরের অধিকর্তা প্রসন্ন প্রধান সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, ওই মহিলার অবিলম্বে কলকাতা পৌঁছানো জরুরি ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে টেকনিক্যাল ফল্টের কারণে ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তিনি মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েন এবং মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে বিমানবন্দরের কম্পিউটার ভাঙচুর করেন। সঙ্গে সঙ্গে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তরফে বিষয়টি স্থানীয় থানাকে জানানো হয়। পরবর্তীতে সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া ও পরিস্থিতি সামলে ওই যাত্রী অন্য ফ্লাইটে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পাশাপাশি বিমানবন্দরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই অপ্রীতিকর ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সরঞ্জামগুলি যত দ্রুত সম্ভব মেরামত করা হবে।