একই কফিনবন্দি শোকের মিছিল! খামেনেইয়ের পাশে থাকা অন্য চারটি কফিন কি তাঁর পরিবারের?

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেইয়ের রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় সারা বিশ্বের নজর এখন তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায়। তবে সেখানে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও বিশ্বনেতাদের হৃদয় সবচেয়ে বেশি ভারাক্রান্ত করছে আলী খামেনেইয়ের কফিনের পাশে রাখা আরও চারটি কফিন। এই চারটি কফিন কার এবং কেন তারা খামেনেইয়ের সাথেই শেষযাত্রায় শরিক হলেন, তা নিয়ে এখন তোলপাড় শুরু হয়েছে।
শোকের মিছিল: কারা ছিলেন সেই চারজন? ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, খামেনেইয়ের কফিনের পাশে রাখা কফিন চারটি ছিল তাঁর পরিবারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সদস্যদের। যারা খামেনেইয়ের সাথে একই প্রাণঘাতী বিমান হামলায় নিহত হয়েছিলেন:
বাশরা আল-খামেনি: আলী খামেনেইয়ের জ্যেষ্ঠ কন্যা।
মিসবাহ আল-হোদা বাঘেরি: খামেনেইয়ের জামাতা এবং বাশরার স্বামী।
জাহরা হাদ্দাদ আদেল: খামেনেইয়ের পুত্রবধূ (মোজতবা খামেনেইয়ের স্ত্রী)।
জাহরা মোহাম্মদী গোলপায়েগানি: খামেনেইয়ের ১৪ মাস বয়সী নাতনি। এই ছোট কফিনটিই বর্তমানে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এক যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেই ও তাঁর পরিবারের এই সদস্যরা নিহত হন। দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় মরদেহ সংরক্ষণের পর, সম্প্রতি সমঝোতার ভিত্তিতে তাঁদের শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে।
শেষযাত্রার সময়সীমা তেহরানে ২-৩ জুলাই স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং আগামী ৫ জুলাই পর্যন্ত জনগণ তাদের শ্রদ্ধা নিবেদন করবে। এরপর আগামী ৯ জুলাই, ইরানের মাশহাদ শহরে ইমাম রেজার মাজারের পাশে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।
একই পরিবারের চার সদস্যকে নিয়ে খামেনেইয়ের এই শেষযাত্রা ইরানের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ও হৃদয়বিদারক অধ্যায় হয়ে থাকবে। পুরো ইরান এখন শোকের ছায়ায় নিমজ্জিত।