PF গ্রাহকদের জন্য সুখবর! ১৫ জুলাইয়ের মধ্যেই অ্যাকাউন্টে ঢুকছে সুদের টাকা, চেক করুন আপনার ব্যালেন্স

দেশের লক্ষ লক্ষ চাকরিজীবী যারা পিএফ (PF) বা প্রভিডেন্ট ফান্ডের ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য এল অত্যন্ত আনন্দের খবর। এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (EPFO) জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জন্য সুদ প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। সাধারণ সময়ে সরকারের সুদের হার ঘোষণার পর টাকা অ্যাকাউন্টে পৌঁছাতে অক্টোবর-নভেম্বর পর্যন্ত সময় লেগে যেত, কিন্তু এবার দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্ন।

কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী মনসুখ মান্ডভিয়া জানিয়েছেন, নতুন সেন্ট্রালাইজড সিস্টেম CITES 2.01 চালু হওয়ার ফলে কাজের গতি বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সৌজন্যে আগামী ১৫ জুলাই, ২০২৬-এর মধ্যেই ৩৪ কোটি সদস্যের অ্যাকাউন্টে সুদের টাকা জমা হয়ে যাবে। পিএফ অ্যাকাউন্টের পাসবুকে সুদের পরিমাণ আপডেট হয়ে যাওয়ার অর্থ হলো, গ্রাহকরা খুব দ্রুত তাদের জমানো টাকার ওপর ৮.২৫ শতাংশ সুদ পেয়ে যাবেন। টানা তৃতীয় বছরের মতো এই একই সুদের হার বহাল রাখা হয়েছে।

এই বিশাল প্রক্রিয়ায় মোট ১.৪৪ লক্ষ কোটি টাকার বেশি অর্থ বিতরণ করা হবে, যার সুবিধা পাবেন প্রায় ৯ কোটি সক্রিয় অ্যাকাউন্টধারী। সবথেকে বড় স্বস্তির বিষয় হলো, এই সুদ পাওয়ার জন্য কোনো গ্রাহককে কোনো বাড়তি ফর্ম পূরণ করতে হবে না বা কোনো অফিসে লাইন দিতে হবে না। পুরো বিষয়টি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। প্রথম ধাপে কম্পিউটারের মাধ্যমে অটো-প্রসেসিং হবে এবং দ্বিতীয় ধাপে ফিল্ড অফিসাররা তা যাচাই করবেন। ভেরিফিকেশন শেষ হলেই পাসবুকে ‘Int. Updated up to 31/03/2026’ লেখা এন্ট্রি দেখা যাবে।

তবে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। গত সপ্তাহে সিস্টেম আপগ্রেডের জন্য EPFO-এর সার্ভার কয়েক দিন বন্ধ ছিল, ফলে এখন ব্যালেন্স চেক করতে গেলে সার্ভারে কিছুটা ধীরগতি লক্ষ্য করা যেতে পারে। তাই অস্থির না হয়ে ১৫ জুলাইয়ের পর UAN পোর্টাল বা UMANG অ্যাপের মাধ্যমে পাসবুক চেক করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, যাদের একাধিক পুরনো কোম্পানির পিএফ অ্যাকাউন্ট এখনো বর্তমান UAN-এর সাথে লিঙ্ক করা নেই, তাদের ব্যালেন্স আপডেট হতে সমস্যা হতে পারে। তাই দ্রুত পুরনো অ্যাকাউন্টগুলো বর্তমানের সঙ্গে লিঙ্ক করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। ই পি এফ স্কিম ১৯৫২-এর জায়গায় ২০২৬ সালে নতুন স্কিম এলেও, গ্রাহকদের প্রাপ্ত সুবিধা ও সুদের হারে কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রযুক্তির এই আধুনিকায়নের ফলে এবার উৎসবের মরসুমের আগেই সাধারণ মানুষের হকের টাকা তাদের হাতে পৌঁছাতে চলেছে, যা সত্যিই এক বড় প্রাপ্তি।