“দাদার হাতে চাকরির নিয়োগপত্র”-গণপিটুনিতে মৃত ইন্দ্রজিতের পরিবারের পাশে মুখ্যমন্ত্রী!

গত সপ্তাহে বারুইপুরের ১১ বছরের নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পরবর্তী উত্তাল পরিস্থিতির শিকার হন নিরীহ যুবক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল। সন্দেহের বশে গণপিটুনিতে তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় শনিবার তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন ইন্দ্রজিতের বাড়িতে গিয়ে তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সাথে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী এবং সরকারি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন।
মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগ:
আর্থিক সাহায্য ও কর্মসংস্থান: ইন্দ্রজিতের পরিবারের হাতে ২৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, নিহতের দাদা বাপী মণ্ডলের হাতে সিভিক ভলান্টিয়ার পদের নিয়োগপত্র প্রদান করেন। পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
বিস্ফোরক অভিযোগ: সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নাম পরিচয় দেখে ইন্দ্রজিৎকে মারা হয়েছে। যাঁরা ভোটে হেরেছে, তাঁরা এই কাজ করেছে। এর পিছনে ধর্মীয় মৌলবাদীদের ষড়যন্ত্রও থাকতে পারে।”
নির্ভীক বার্তা: তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইন্দ্রজিৎ সম্পূর্ণ নির্দোষ ছিলেন। এই ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে রেয়াত করা হবে না এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
তদন্ত ও গ্রেফতারি: পুলিশ সূত্রে খবর, গত কয়েক দিনে বারুইপুর কাণ্ডে ধরপাকড় তুঙ্গে। শুক্রবার পর্যন্ত ৩৫ জন গ্রেফতার হওয়ার পর, শনিবার সকালে আরও ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এই ঘটনায় মোট গ্রেফতারের সংখ্যা এখন ৩৮। পুলিশ অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে পুরো ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
পরিবারের প্রতিক্রিয়া: নিয়োগপত্র ও আর্থিক সাহায্য পেয়ে কিছুটা স্বস্তিতে ইন্দ্রজিতের পরিবার। নিহতের দাদা বাপী মণ্ডল জানান, মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন এবং পুরো পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন।
উল্লেখ্য, গত রবিবার বারুইপুরে এক নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পর এলাকা উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং সেই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর থেকেই প্রশাসনের সক্রিয়তায় একের পর এক অপরাধী গ্রেফতার হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে ঘটনার মনিটরিং করায় এলাকায় অপরাধীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে।