‘বিরোধীরা জরুরি অবস্থার মতো ভাষা বলছে!’ প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি ইস্যুতে সরব সুধাংশু ত্রিবেদী

নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ তুলে ভারতের প্রধান বিচারপতির কাছে বিরোধী জোটের (ইন্ডিয়া কোয়ালিশন) পাঠানো চিঠিকে ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে তুঙ্গে উঠেছে সংঘাত। বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র ও রাজ্যসভার সদস্য ডঃ সুধাংশু ত্রিবেদী এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা করে একে গণতন্ত্রকে দুর্বল করার ‘ব্যর্থ চেষ্টা’ বলে অভিহিত করেছেন।

বিরোধীদের ‘জরুরি অবস্থার’ তকমা: এক সাংবাদিক সম্মেলনে সুধাংশু ত্রিবেদী বলেন, “প্রধান বিচারপতিকে লেখা বিরোধীদের চিঠিতে ব্যবহৃত ভাষা ঠিক সেই ঔদ্ধত্যপূর্ণ ভাষার প্রতিফলন, যা আমরা জরুরি অবস্থার (Emergency) সময় দেখেছিলাম।” তিনি অভিযোগ করেন, যে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের ব্যক্তিগত জমিদারী মনে করে, তারা বারবার নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর এখন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আক্রমণ করছে।

বিরোধীদের শাসনের মডেল নিয়ে প্রশ্ন: সুধাংশু ত্রিবেদী পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলোর কাজের ধরন নিয়ে। তিনি বলেন, “কংগ্রেস কর্ণাটক ও তেলেঙ্গানায় সরকার চালাচ্ছে। তাদের উন্নয়নের মডেল কী? শুধু তোষণ, দুর্নীতি এবং মৌলবাদীদের সমর্থন দেওয়া।” তিনি আরও যোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী গুজরাটে যে ‘ভাইব্রেন্ট গুজরাট’ মডেল তৈরি করেছিলেন, আজও তা সফল। বিরোধীদের কাছে সেই মানের কোনো শাসন মডেল নেই।

নির্বাচন প্রক্রিয়ার সাফাই: বিরোধীরা যে ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) বা ভোটার তালিকা সংশোধনের সমালোচনা করছে, তার উত্তরে বিজেপি নেতা বলেন, এই প্রক্রিয়াটি আইনসম্মত এবং অতীতেও নির্বাচন কমিশন তা করেছে। তিনি কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের একটি পুরোনো মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, কেরালায় স্বয়ং কংগ্রেস স্বীকার করেছিল যে বাম শাসনামলে ভুয়া ভোটারদের নাম বাদ দিতে এই প্রক্রিয়ার প্রয়োজন ছিল। এমনকি কর্ণাটকে ডিকে শিবকুমার স্বয়ং এই প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আজ সেই একই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করা বিরোধীদের দ্বিমুখী চরিত্রকেই প্রকাশ করে।

বিজেপির কঠোর অবস্থান: বিজেপি মুখপাত্রের মতে, সাংবিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিরোধীরা আদালতে নিজেদের দাবির সপক্ষে কোনো বাস্তব তথ্য বা প্রমাণ তুলে ধরতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। রাজ্যে রাজ্যে ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায় তারা এখন হতাশ হয়ে নির্বাচন কমিশন ও গণতন্ত্রের ওপর দায় চাপাচ্ছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা নির্বাচনের আগে নির্বাচন প্রক্রিয়া ও সাংবিধানিক সংস্থাকে ঘিরে এই বিবাদ ভবিষ্যতে আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিচ্ছে।