রাজ্যে শিল্পে জোয়ার! ডানকুনির ২০ লক্ষ বর্গফুটের নতুন কারখানার শিলান্যাস আজ, সিঙ্গুরকেও ছাপিয়ে যাওয়ার আশা

দীর্ঘদিন শিল্পের খরা কাটিয়ে অবশেষে রাজ্যে এক বড়সড় সাফল্য। সিঙ্গুরের স্মৃতি পেছনে ফেলে এবার শিল্পায়নের নক্ষত্র হিসেবে উঠে আসছে ডানকুনি। এই এলাকাটিকে কেন্দ্র করেই রাজ্য সরকার এক নতুন শিল্প বিপ্লবের স্বপ্ন দেখছে। আজ ডানকুনির বুকে ২০ লক্ষ বর্গফুটের নতুন কারখানার শিলান্যাস করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। লাক্স ইন্ডাস্ট্রিজ়ের এই বিশাল প্রকল্পকে কেন্দ্র করে শুধু হুগলি জেলা নয়, গোটা রাজ্যের শিল্প মানচিত্র বদলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থার নিরিখে ডানকুনি আগে থেকেই একটি লজিস্টিক হাব হিসেবে পরিচিত। বড় বড় ই-কমার্স সংস্থা এখানে তাদের ডিস্ট্রিবিউশন হাব তৈরি করেছে। এবার সেখানে লাক্স ইন্ডাস্ট্রিজ়ের মতো বড় ব্র্যান্ডের নতুন প্ল্যান্ট যুক্ত হওয়ায় ওই অঞ্চলের গুরুত্ব কয়েক গুণ বেড়ে গেল। সংস্থার তরফে জানা গেছে, ৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে এই নতুন ইউনিট তৈরি করা হচ্ছে। নতুন ও পুরনো ইউনিট মিলিয়ে প্রায় ২০ লক্ষ বর্গফুট এলাকা জুড়ে এই মেগা কারখানাটি গড়ে উঠছে, যার ফলে কর্মসংস্থানের এক বিশাল সুযোগ তৈরি হতে চলেছে।
এই শিল্পায়ন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও বিপুল উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মানসী ঘোষ নামে এক স্থানীয় কর্মী জানান, “নতুন প্ল্যান্ট হলে আরও কাজের সুযোগ বাড়বে। এলাকার মানুষের উন্নতি হবে, যা রাজ্যের অর্থনীতির জন্যও ভালো সংকেত।” তবে কেবল কর্মসংস্থান নয়, নতুন নতুন কারখানার দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় যুবসমাজও। পীযূষ কান্তি ঢালির মতো স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানালেও, বেতনের কাঠামো নিয়ে নির্দিষ্ট দাবি তুলেছেন। তাঁদের মতে, কারখানায় কর্মসংস্থানের পাশাপাশি ন্যূনতম ২১ হাজার টাকা বেতন নিশ্চিত করলে বেকার যুবকরা আরও বেশি উৎসাহিত হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডানকুনি লজিস্টিক হাব হওয়ার সুবাদে পরিবহণ ও আনুষাঙ্গিক শিল্পেও বড় জোয়ার আসবে। ক্ষুদ্র ব্যবসা থেকে শুরু করে লজিস্টিক চেইন—সবক্ষেত্রেই এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। গত কয়েক বছরে রাজ্যে বড় শিল্পের অভাব নিয়ে যে সমালোচনার পাহাড় তৈরি হয়েছিল, ডানকুনির এই মেগা প্রকল্প তা অনেকটাই কমিয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকার চাইছে শিল্পের এই গতিকে ধরে রাখতে, যাতে সিঙ্গুরের মতো কোনো প্রকল্প মাঝপথে থমকে না যায়। ডানকুনি এখন সেই শিল্পের নতুন ভরকেন্দ্র হয়ে ওঠার পথে, যেখানে কাজ আর উন্নয়নের স্বপ্ন দেখছেন হাজার হাজার মানুষ।