ইউনূস সরকারের মন জিততেই কি ভারত-ম্যাচ বয়কট? বিশ্বকাপের আগে পাকিস্তানের ‘ডিপ্লোম্যাটিক’ চাল

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ বয়কট করা নিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (PCB) সিদ্ধান্তে এবার উঠে এল চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক তত্ত্ব। অভিযোগ উঠেছে, ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে না চাওয়ার এই জেদ যতটা না ক্রিকেটের জন্য, তার চেয়ে অনেক বেশি প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর কৌশল।

পাক বোর্ড চেয়ারম্যানের দ্বিমুখী চাল? পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি বর্তমানে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বটে। পাকিস্তান ক্রিকেট মহলের একাংশের দাবি, নকভি আসলে একজন ঝানু রাজনীতিকের মতো চাল চালছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন। এই নির্বাচনে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের পাশে থাকার একটি জোরালো বার্তা দিতেই ভারত-ম্যাচ বয়কটের নাটক সাজানো হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

কেন হঠাৎ এই ১৮০ ডিগ্রি বদল হতে পারে?

ভোটের টাইমিং: ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের নির্বাচন শেষ হবে। ভারত-পাক ম্যাচটি হওয়ার কথা ১৫ ফেব্রুয়ারি। মাঝের এই দু’দিনেই নকভি নিজের সিদ্ধান্ত বদলে ফেলতে পারেন বলে মনে করছেন খোদ পাক বোর্ড কর্তারা।

আইসিসি-র শাস্তির ভয়: সরকারিভাবে পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের কথা এখনও আইসিসি-কে ইমেল করে জানায়নি। বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে না খেললে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে কোটি কোটি টাকা জরিমানা এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে।

খেলোয়াড়দের অসন্তোষ: ক্রিকেটারদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বাবর আজম-রিজওয়ানদের মধ্যেও চাপা ক্ষোভ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ১২ তারিখের পর পাকিস্তান ‘ইউ-টার্ন’ নিলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। আসলে বাংলাদেশের রাজনীতির মঞ্চে নিজের নম্বর বাড়াতেই কি বিশ্ব ক্রিকেটের সেরা লড়াইকে বাজি ধরলেন নকভি? প্রশ্ন উঠছে সব মহলে।