সৃঞ্জয় দে-র মৃত্যু রহস্যে নয়া মোড়, সল্টলেকে ‘জনতার দরবার’-এ বিচার চেয়ে সরব মৃত ছাত্রের পরিবার

২০২৪ সালের ১৩ এপ্রিল লেকটাউনের একটি ফ্ল্যাট থেকে রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র সৃঞ্জয় দে-র নিথর দেহ উদ্ধার হয়েছিল। সেই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা রহস্যের জট প্রায় ১৫ মাস পেরিয়েও কাটেনি। সেদিন সৃঞ্জয়ের বন্ধুর ফ্ল্যাট থে

কে উদ্ধার হওয়া মৃতদেহটি নিয়ে পুলিশ ময়নাতদন্তের পর ‘আত্মহত্যা’ বলে রিপোর্ট দিলেও, সেই দাবি মানতে নারাজ মৃত ছাত্রের পরিবার। তাদের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। সোমবার সল্টলেকের বিজেপির সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘জনতার দরবার’-এ এসে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিচারের আর্জি জানালেন সৃঞ্জয়ের বাবা যদু দে এবং তাঁর স্ত্রী।

কী অভিযোগ পরিবারের?
শোকার্ত বাবা যদু দে এদিন একরাশ ক্ষোভ ও অভিযোগ নিয়ে হাজির হন। তাঁর কথায়, “ছেলের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাকে নৃশংসভাবে মারধর করে খুন করা হয়েছে। তদন্তে প্রভাব খাটিয়ে খুনের ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়েছে।” শুধু এটুকুই নয়, তিনি সরাসরি নাম নিয়ে মন্ত্রী সুজিত বসুর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রভাবিত করার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। যদু দে-র আরও দাবি, “আমার ছেলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমর্থক ছিল এবং তাঁর পক্ষে কথা বলত। সেই আক্রোশ থেকেই তৃণমূল তাকে খুন করেছে।”

১৫ মাস পর নতুন করে সুর চড়ছে কেন?
সৃঞ্জয়ের মৃত্যুর পরপরই পরিবার দাবি করেছিল যে এটি অস্বাভাবিক মৃত্যু। কিন্তু পুলিশের বয়ানে সেই মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোয় তারা শুরু থেকেই ক্ষুব্ধ ছিলেন। বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও ন্যায়বিচার না পাওয়ায় আজ তাঁরা চরম হতাশ। রাজনৈতিক পটভূমিতে দাঁড়িয়ে, সৃঞ্জয়ের মৃত্যুর সঙ্গে রাজনৈতিক মতাদর্শের যোগসূত্র টেনে পরিবার নতুন করে তদন্তের দাবি তুলেছে। তাঁদের অভিযোগ, যে বন্ধুর ফ্ল্যাটে সৃঞ্জয়কে পাওয়া গিয়েছিল, সেই ঘটনার যথাযথ তদন্ত হয়নি। প্রভাবশালী মন্ত্রী সুজিত বসুর নাম জড়িয়ে পড়ায় এই ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোর ক্রমশ বাড়ছে।

তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক জলঘোলা:
সৃঞ্জয় দে ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র হিসেবে তাঁর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছিলেন পরিবার। কিন্তু ১৩ এপ্রিলের সেই রাত সব শেষ করে দেয়। আজ সল্টলেকে বিজেপির দরবারে যদু দে-র এই বিস্ফোরক অভিযোগ নতুন করে রাজ্যের রাজনীতিকে উত্তপ্ত করে তুলেছে। বিজেপি নেতৃত্ব এই ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ সিবিআই (CBI) তদন্তের দাবি জানাচ্ছে। তাঁরা প্রশ্ন তুলছেন, একজন মেধাবী ছাত্রের মৃত্যুর তদন্ত কেন ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে?

ঘটনাটি কেবল একটি ছাত্রের রহস্যমৃত্যু নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িত রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ বিষয়টি আরও জটিল করে তুলেছে। যদু দে এদিন মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে কান্নায় ভেঙে পড়ে নিজের পুত্রের শেষ বিচার চেয়েছেন। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী সুজিত বসু বা শাসকদলের তরফ থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে পরিবারের এই দাবিতে তদন্তের নতুন কোনো দিক উন্মোচিত হয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ন্যায়বিচারের আশায় এখন প্রহর গুনছেন সৃঞ্জয়ের বাবা-মা।