অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন! পুলিশ কনস্টেবল থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, সি আর পাটিলের মাস্টারস্ট্রোকেই রেকর্ড জয় বিজেপির

পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে সফলভাবে গুজরাট বিজেপি প্রধানের দায়িত্ব সামলানোর পর অবশেষে পদত্যাগ করতে চলেছেন চন্দ্রকান্ত রঘুনাথ পাটিল। জলগাঁও, মহারাষ্ট্রের এই নেতা, যিনি ‘সিআর’ নামেই বেশি পরিচিত, ছিলেন প্রথম “অ-গুজরাটি” যিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পদটি সামলেছেন। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহের রাজ্যের রাজনীতিতে পাটিলের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং মোদীর ‘পছন্দের লোক’ হিসেবে তাঁর পরিচিতি প্রশ্ন তোলার সুযোগ দেয়নি।
৭০ বছর বয়সী সি আর পাটিল ২০২০ সালের জুলাই মাসে দায়িত্ব নেন, যখন ২০১৭ সালের পাতিদার আন্দোলনের ধাক্কায় বিজেপি ১৮২ আসনের বিধানসভায় মাত্র ৯৯টি আসনে নেমে এসেছিল। প্রথম কোভিড তরঙ্গের সময় সরকারি বিরোধী জনমতের মধ্যেও তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ ছিল চ্যালেঞ্জিং।
কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পরই সি আর পাটিল তাঁর দক্ষতা প্রমাণ করেন। ২০২০ সালের নভেম্বরে কংগ্রেস থেকে দলত্যাগ করা বিধায়কদের ফাঁকা করা আটটি বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে বিজেপি সবকটিতেই জয়লাভ করে। এরপর আসে তাঁর সবচেয়ে বড় চমক: ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপাণীকে সরিয়ে দেওয়া সহ পুরো গুজরাট মন্ত্রিসভাকে ঢেলে সাজানো এবং প্রচুর নতুন মুখকে সুযোগ দেওয়া।
পাটিলের নেতৃত্বাধীন এই পরিবর্তনগুলি যে বুমেরাং হয়নি, তা প্রমাণ করে পরবর্তী নির্বাচনগুলি। ২০২১ সালের মার্চে স্থানীয় নির্বাচনে বিজেপি ছয়টি পৌর কর্পোরেশন সহ সবকটিতেই দুর্দান্ত জয় পায়। এরপর ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তো বিজেপি গুজরাটের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা (১৫৬টি আসন) নিয়ে রেকর্ড করে।
২০২৩ সালের জুলাই মাসে তাঁর মেয়াদ শেষ হলেও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত তাঁকে এক্সটেনশন দেওয়া হয়। প্রত্যাশিতভাবেই পাটিল আরও একবার ‘মাস্টারস্ট্রোক’ খেলেন, বিজেপি গুজরাটের ২৬টি লোকসভা আসনের মধ্যে ২৫টিতে জয়লাভ করে।
২০২৪ সালে মোদী পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর পাটিলকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় জলশক্তি মন্ত্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যার পরেই তাঁর প্রদেশ সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ ছিল সময়ের অপেক্ষা। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন রাজ্যের মন্ত্রী জগদীশ বিশ্বকর্মা (জগদীশ পাঞ্চাল), যিনি একজন ওবিসি নেতা এবং আহমেদাবাদের বিধায়ক।
পাটিলের উল্লেখযোগ্য উদ্যোগগুলির মধ্যে ছিল ‘পেজ কমিটি’ গঠন—যা একটি নির্বাচনী রোলের প্রতি পৃষ্ঠার দলের সমর্থকদের তালিকা ধরে কাজ করত—এই পদ্ধতির প্রশংসা করে মোদী স্বয়ং চিঠি লিখেছিলেন। যদিও ‘গুজরাট ক্যাটল কন্ট্রোল বিল, ২০২২’ এবং পার-তাপি-নর্মদা আন্তঃসংযোগ প্রকল্প-এর মতো কিছু সিদ্ধান্তকে প্রতিবাদে বাতিল করতে হয়।
সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে একজন প্রবীণ বিজেপি নেতা পাটিলকে “দলের সর্বকালের সেরা সভাপতি” হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর ‘মাই ওয়ে অর দ্য হাইওয়ে’ (My way or the highway) স্টাইল সত্ত্বেও, তিনি ২০১৭ সালের বিপর্যয়ের পর গুজরাট বিজেপিকে চাঙ্গা করে রেকর্ড জয় এনে দিয়েছেন।