প্রেমের মূল্য দিতে হলো ভয়ঙ্করভাবে, স্ত্রীর বাড়ির লোকজনের হাতে প্রহৃত যুবক, হাসপাতালে আশঙ্কাজনক

বিয়ে মেনে নেয়নি মেয়ের পরিবার, তাই তার ফলস্বরূপ ভয়ঙ্কর আক্রমণের শিকার হলেন হরিয়ানার এক যুবক। কুণাল নামে ওই যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অভিযোগ, তাঁর স্ত্রী কোমল গোস্বামীকে (২১) তাঁর বাবা-মায়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে করায় কুণালকে স্ত্রীর বাড়ির লোকজনের হাতে ভয়ঙ্করভাবে প্রহৃত হতে হয়েছে।

তাঁর উপর ধারালো অস্ত্রের আঘাত করা হয়েছে এবং তাঁর দু’ হাত এবং দু’ পা ভেঙে গিয়েছে।

ঘটনাস্থলে মারধর ও ছবি সরানোর চাপ
কুণাল ও কোমল ২০২২ সালের ২৬ জুন প্রেমের সম্পর্ককে পরিণতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বিয়ের কয়েক মাস পরই কোমল তাঁর ঠাকুমার অসুস্থতার অজুহাতে কুণালকে ছেড়ে বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন। এরপর থেকেই সম্পর্কের জটিলতা শুরু।

২৪শে সেপ্টেম্বর, কুণাল যখন তাঁর বাবার সঙ্গে কাজ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন, তখন তাঁকে পথ থামিয়ে বাইক আরোহীরা আক্রমণ করে বলে অভিযোগ। কুণাল হাসপাতালের বিছানা থেকে জানান,

‘‘কোমলের বাবা আমাকে ইনস্টাগ্রাম থেকে ছবি মুছে ফেলতে বলেছিলেন। আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম কীভাবে তাঁরা প্রথম বিয়ে থেকে ডিভোর্স ছাড়াই কোমলের দ্বিতীয় বিয়ের বন্দোবস্ত করতে পারেন।”

কুণালের অভিযোগ, কোমলের বাবা সতীশ এবং কাকা রাকেশ তখন দর্শক হিসেবে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং ৩-৪ জন তাঁকে লাঠি দিয়ে মারধর করে। তখন একজন তাঁর ফোনে মারধরের ঘটনাটি রেকর্ড করছিল।

ভরণপোষণের মামলা ও দ্বিতীয় বিয়ের তোড়জোড়
কুণাল অভিযোগ করেন, কোমল তাঁর বিরুদ্ধে পারিবারিক হিংসার মামলা দায়ের করেছেন। পাশাপাশি তিনি প্রতি মাসে ৩০,০০০ টাকা ভরণপোষণেরও দাবি করেছেন, যা কুণালের মাসিক ১২,০০০ টাকার বেতনের চেয়ে অনেক বেশি।

শীঘ্রই কুণাল জানতে পারেন যে, কোমলের পরিবার উত্তরপ্রদেশের শামলিতে অন্য একজনের সঙ্গে তাঁর দ্বিতীয় বিয়ে ঠিক করেছে। অভিযোগ, কোমলের নতুন শ্বশুরবাড়ির লোকজনই কুণালের সঙ্গে কোমলের প্রথম বিয়ের ছবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, তাই কুণালকে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ছবিগুলি সরিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল।

উল্লেখ্য, কুণাল এবং কোমল এখনও আইনত বিবাহিত এবং তাঁদের ডিভোর্সের মামলাটি আদালতে বিচারাধীন। পরবর্তী শুনানি ২৫ অক্টোবর ধার্য হয়েছে। পুলিশ কুণালের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে।