দুর্গাপুজোয় সাহসী পদক্ষেপ! নারীকে অবহেলা করলে সমাজ এগোয় না—শিল্পের ভাষায় কড়া বার্তা মেদিনীপুরের ‘স্বদেশভূমি’র

সমাজকে প্রশ্ন করা এবং চেতনার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এবারের দুর্গাপূজার থিম তৈরি করেছে কাঁথির মুকুন্দপুরের ক্লাব স্বদেশভূমি। তাঁদের ১৬তম বর্ষের থিম ‘নারীশক্তি’-র মাধ্যমে ক্লাবটি সমাজের সেই কঠিন বাস্তবতাকে তুলে ধরেছে, যেখানে নারী আজও অবহেলা, বঞ্চনা ও নির্যাতনের শিকার।
নারী নির্যাতনের অন্ধকার দিক ও জাগরণ
ক্লাব স্বদেশভূমির এই থিমটি সমাজমুখী এবং সাহসী। তাঁদের মূল বার্তা হলো— নারী ছাড়া কোনও সমাজ সম্পূর্ণ নয়, নারী ছাড়া কোনও সভ্যতা পূর্ণ হতে পারে না। মণ্ডপে নারী অত্যাচারের প্রতীকী চিত্র ধরা পড়েছে, যা সমাজের অমানবিক রূপের দিকে আঙুল তুলেছে।
যন্ত্রণা ও বঞ্চনা: এই থিমে কন্যাভ্রূণ হত্যা, ধর্ষণের বিভীষিকাময় ঘটনা এবং সামাজিক কুসংস্কারের মতো বিষয়গুলিকে শিল্পের ভাষায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। দর্শনার্থীরা মণ্ডপে প্রবেশ করতেই যেন নারীর বেদনা অনুভব করেছেন।
শক্তির বার্তা: শুধু অন্ধকার দিক নয়, তুলির আঁচড়, মাটির গড়ন ও আলোর ছটায় শিল্পীরা একইসঙ্গে নারীশক্তির জাগরণ ও সম্ভাবনাকে তুলে ধরছেন। নারীর শক্তি ও মর্যাদার বার্তা দর্শকদের হৃদয়ে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
চেতনা জাগানোই মূল লক্ষ্য
মেদিনীপুর জেলার সেরা হওয়ার একাধিক কৃতিত্ব থাকা সত্ত্বেও, ক্লাব স্বদেশভূমির কাছে শুধু আনন্দ নয়, মানুষের মধ্যে সচেতনতা জাগানোও সমান জরুরি। ক্লাবের অন্যতম কর্মকর্তা তরুণ জানা বলেন,
“আমরা চাই এই থিমের মাধ্যমে সমাজে নারীকে সম্মান দেওয়ার বার্তা ছড়িয়ে পড়ুক। পুজো শুধু আনন্দের নয়, পুজো হোক চেতনার। নারীকে অবহেলা করলে সমাজ এগোতে পারে না আর নারীকে মর্যাদা দিলে সমাজ আরও সুন্দর হয়ে উঠবে।”
এই থিমের মাধ্যমে ক্লাবটি সমাজের কাছে কড়া প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে— আজও কেন নারীকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকের মতো দেখা হয়? ক্লাব কর্তৃপক্ষ বিশ্বাস রাখছেন, এই বার্তা মানুষের মননে আলোড়ন তুলবে এবং নারীশক্তির মর্যাদা রক্ষায় সমাজকে আরও এগিয়ে আসতে হবে, এই চেতনা প্রতিটি দর্শনার্থীর মনে নাড়া দেবে।