ঘি না মাখন? হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে কোনটি সেরা, কী বলছে নতুন গবেষণা?

হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে ঘি নাকি বাটার—কোনটি বেশি নিরাপদ, তা নিয়ে সচেতন মহলে দীর্ঘদিনের বিতর্ক রয়েছে। পুষ্টিবিদদের মতে, উভয় খাবারেই স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকায় অতিরিক্ত সেবন হৃদপিণ্ডের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তবে পরিমিত ব্যবহারে উভয়ই স্বাস্থ্যকর ডায়েটের অংশ হতে পারে।
ঘি রান্নার ক্ষেত্রে অধিক উপযোগী, কারণ এর স্মোক পয়েন্ট বেশি। এছাড়া ঘিতে ভিটামিন এ, ডি, ই এবং কে-এর মতো ফ্যাট-দ্রবণীয় পুষ্টি উপাদান থাকে। অন্যদিকে, বাটারে দুধের প্রোটিন থাকে, যা অনেকে পছন্দ করেন। ‘প্রোগ্রেস ইন নিউট্রিশন’ (২০২৫)-এর গবেষণায় ঘি এবং করোনারি হৃদরোগের ঝুঁকির মধ্যে এক সূক্ষ্ম সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আবার জেএএমএ ইন্টারনাল মেডিসিন জার্নালের ৩৩ বছরব্যাপী গবেষণায় দেখা গেছে, মাখনের বদলে উদ্ভিজ্জ তেল ব্যবহার করলে অকালমৃত্যুর ঝুঁকি কমতে পারে।
মূলত, ঘি বা মাখন—কোনটি বেশি ভালো তা নির্ভর করে আপনার সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের ওপর। স্যাচুরেটেড ফ্যাট খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে, যা হৃদরোগের অন্যতম কারণ। তাই যাদের রক্তে কোলেস্টেরল বেশি বা হৃদরোগের ঝুঁকি রয়েছে, তাদের স্যাচুরেটেড ফ্যাট সীমিত করাই বাঞ্ছনীয়। দৈনন্দিন রান্নার জন্য অলিভ, সরিষা বা বাদাম তেলের মতো হার্ট-ফ্রেন্ডলি তেল বেছে নেওয়া বেশি কার্যকর। তবে ঘি বা বাটার যা-ই ব্যবহার করুন না কেন, সুষম আহার, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখাই হার্টের দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষার মূল চাবিকাঠি।