অমরনাথে অলৌকিক বিপর্যয়! ৫ দিনের মাথাতেই গায়েব বরফানি বাবা, শিবলিঙ্গহীন গুহা ঘিরে তুঙ্গে আতঙ্ক

সদ্য শুরু হওয়া অমরনাথ যাত্রা ঘিরে এবার এক অভাবনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৬ সালের অমরনাথ যাত্রা শুরু হয়েছিল গত ৩ জুলাই। কিন্তু তীর্থযাত্রার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় যে চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এসেছে, তা রীতিমতো ভাবিয়ে তুলেছে ভক্ত ও পরিবেশবিদদের। বরফানি বাবার গুহায় এখন আর শিবলিঙ্গের কোনো চিহ্নই নেই। মাত্র পাঁচ দিনে সম্পূর্ণ গলে গিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেছে প্রাকৃতিক এই শিবলিঙ্গ।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৩ মে বিএসএফ-এর তোলা ছবিতে অমরনাথ গুহায় প্রাকৃতিক ভাবে তৈরি শিবলিঙ্গের উচ্চতা ছিল প্রায় ৭ ফুট। ৩ জুলাই যখন আনুষ্ঠানিকভাবে তীর্থযাত্রা শুরু হয়, তখনও শিবলিঙ্গের উচ্চতা ৫ ফুটের বেশি ছিল। কিন্তু এরপর থেকেই তাপমাত্রা দ্রুত বাড়তে থাকায় বরফ গলার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়। ৬ জুলাইয়ের মধ্যেই শিবলিঙ্গের ৯০ শতাংশ অংশ গলে গিয়েছিল, আর বর্তমানে গুহা প্রায় ফাঁকা।

গবেষক ও আবহাওয়াবিদদের মতে, এই অকাল বিসর্জনের মূল কারণ হলো রেকর্ড তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তন। অতিরিক্ত আর্দ্রতা এবং ক্রমবর্ধমান গরমের ফলে গুহার ভেতর বরফ জমার প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াটি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। গুহার ছাদ থেকে যে জল চুঁইয়ে পড়ে শিবলিঙ্গ তৈরি হয়, সেই জলের প্রবাহও এবার তুলনামূলকভাবে কম ছিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও এটি কোনো অলৌকিক বা অমঙ্গলজনক সঙ্কেত কি না, তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও বিজ্ঞানীরা একে জলবায়ু পরিবর্তনের এক স্পষ্ট ও ভয়ঙ্কর বার্তা হিসেবেই দেখছেন।

শিবলিঙ্গ গলে গেলেও অমরনাথ যাত্রা কিন্তু বন্ধ হচ্ছে না। আগামী ২৮ আগস্ট পর্যন্ত এই তীর্থযাত্রা চলবে। পহেলগাঁও এবং বালতাল—এই দুই রুট দিয়েই তীর্থযাত্রীরা নিয়মিত গুহার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। প্রশাসন জানিয়েছে, এ বছর প্রায় ৪ লক্ষ তীর্থযাত্রী অমরনাথ দর্শনের জন্য নাম নথিভুক্ত করেছেন। প্রথম দিনেই প্রায় ৪৬ হাজার পুণ্যার্থী দেবদর্শনে পৌঁছেছিলেন। শিবলিঙ্গ অদৃশ্য হয়ে গেলেও গুহার ভেতরে ঐতিহ্য মেনে পুজো-অর্চনা অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, অমরনাথের শিবলিঙ্গ সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক। গুহার ছাদ থেকে চুঁইয়ে পড়া জলের ধারা তীব্র শীতে জমে গিয়েই এই শিবলিঙ্গের আকার নেয়। প্রতি বছরই তাপমাত্রা ও আবহাওয়ার ওপর ভিত্তি করে এর উচ্চতা কম-বেশি হয়। কিন্তু এবারের তীব্র গরম এই প্রাকৃতিক ভারসাম্যকে পুরোপুরি উলটপালট করে দিয়েছে। শিবলিঙ্গ না থাকলেও বরফানি বাবার আশীর্বাদ নিতে হাজার হাজার ভক্তের ঢল এখনো অমরনাথের পথে।