অবশেষে কাটল জট! ডিসেম্বরেই চালু হচ্ছে চিংড়িঘাটা মেট্রো, অফিসযাত্রীদের জন্য বড় সুখবর

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে কলকাতা মেট্রোর (Kolkata Metro) অরেঞ্জ লাইনের কাজ। চিংড়িঘাটা এলাকায় বহুদিন ধরে থমকে থাকা মেট্রো প্রকল্পের কাজ এখন শেষ পর্যায়ের পথে। প্রায় আড়াই বছর ধরে ঝুলে থাকা গার্ডার বসানোর কঠিন চ্যালেঞ্জটিকে মাত্র আড়াই মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (RVNL)। মেট্রো কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই কবি সুভাষ থেকে সেক্টর ফাইভের আইটি সেন্টার পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক মেট্রো পরিষেবা চালু করা।

এই প্রকল্পের অন্যতম বাধা ছিল চিংড়িঘাটা উড়ালপুলের ওপর গার্ডার বসানোর বিষয়টি। এই গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য গত শুক্রবার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত উড়ালপুলে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে কাজ চালিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ৩২৬ নম্বর পিলার থেকে ৩২৭ নম্বর পিলারের মধ্যে এই বিশাল গার্ডার বসানোর কাজ অত্যন্ত জটিল ছিল। এটি সফলভাবে সম্পন্ন হলে, প্রকল্পটিকে গৌরকিশোর ঘোষ মেট্রো স্টেশনের সঙ্গে যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই সংযোগটি অরেঞ্জ লাইনের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী প্রযুক্তিগত কাজগুলো এগিয়ে যাবে।

মেট্রো সূত্রের খবর, গৌরকিশোর ঘোষ স্টেশনের সঙ্গে গার্ডার যুক্ত হওয়ার পরই ট্র্যাক বসানো, বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং অত্যাধুনিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা স্থাপনের কাজ শুরু হবে। কর্তৃপক্ষ এই কাজগুলোকে ‘যুদ্ধকালীন তৎপরতা’ হিসেবে দেখছে। তাদের লক্ষ্য, দুর্গাপূজার উৎসবের আগেই সমস্ত নির্মাণ ও প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো প্রস্তুত করে ফেলা। অক্টোবরের মধ্যেই অবকাঠামোগত কাজ শেষ করতে পারলে নভেম্বর মাসজুড়ে চলবে ট্রায়াল রান বা পরীক্ষামূলক দৌড়। সুরক্ষা সংক্রান্ত সমস্ত পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হলে, ডিসেম্বরের মধ্যে যাত্রী পরিষেবা শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমানে অরেঞ্জ লাইনে কবি সুভাষ থেকে বেলেঘাটা পর্যন্ত প্রায় ৯.৬ কিলোমিটার পথে মেট্রো পরিষেবা সচল রয়েছে। চিংড়িঘাটার এই সংযোগটি সম্পূর্ণ হলে গৌরকিশোর ঘোষ, নলবন এবং আইটি সেন্টার—এই তিনটি নতুন গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন যুক্ত হবে। ফলে দক্ষিণ কলকাতার সঙ্গে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ ও তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক বেশি সহজ ও দ্রুত হবে। অফিসযাত্রীদের দৈনন্দিন যাতায়াতের সময় অনেকটা সাশ্রয় হবে এবং যানজট থেকে মুক্তি মিলবে। রেল ও মেট্রো কর্তৃপক্ষের এই তৎপরতায় নিত্যযাত্রীদের মধ্যে এখন খুশির হাওয়া।