অষ্টম বেতন কমিশনের চূড়ান্ত লড়াই কলকাতায়! ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কি তবে ৪ গুণ হতে চলেছে?

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার কলকাতার মাটিতে বসছে অষ্টম বেতন কমিশনের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শমূলক বৈঠক। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এই দুই দিনের বৈঠকটি জাতীয় পর্যায়ে কমিশনের কাজের একটি নির্ণায়ক ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভুবনেশ্বর, দিল্লি এবং লখনউয়ের পর কলকাতার এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞ এবং অর্থনীতিবিদরা। দেশজুড়ে লক্ষ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের নজর এখন এই বৈঠকের দিকে।
অষ্টম বেতন কমিশনের মূল উদ্দেশ্য হলো কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বর্তমান বেতন ও ভাতা কাঠামোয় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা। এই বৈঠকে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার, কর্মচারী সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের কাছ থেকে তথ্য ও মতামত সংগ্রহ করা হবে। আলোচনার কেন্দ্রে যে বিষয়গুলো প্রাধান্য পাচ্ছে তার মধ্যে অন্যতম হলো ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’। সপ্তম বেতন কমিশনের ২.৫৭ গুণ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরকে বাড়িয়ে ৩.৬৮ বা তার বেশি করার দাবি দীর্ঘদিনের। বিপিএমএস-এর মতো বড় সংগঠন ৪ গুণ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের প্রস্তাব দিয়েছে। যদি এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়, তবে ন্যূনতম মূল বেতন বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৭২ হাজার টাকা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি ‘ওল্ড পেনশন স্কিম’ (OPS) পুনর্বহালের দাবিটিও এই বৈঠকে বড় জায়গা জুড়ে রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি ‘ইউনিফাইড পেনশন স্কিম’ (UPS) নিয়ে এলেও, বহু কর্মচারী সংগঠন এতে সন্তুষ্ট নয়। তারা পুরনো পেনশন স্কিম বা OPS ফেরানোর দাবি জানিয়ে আসছে। এছাড়াও হাউজ রেন্ট অ্যালাউন্স (HRA)-এর পুনর্বিন্যাস, ডিয়ারনেস রিলিফে (DR) সমতা আনা এবং পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসা পরিষেবার মানোন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হচ্ছে। ‘মডিফায়েড অ্যাসিওরড কেরিয়ার প্রগ্রেশন’ (MACP) স্কিমের জটিলতা কমানোর দাবিও এই আলোচনার অন্যতম অংশ।
২০২৫ সালের নভেম্বরে গঠিত এই কমিশনের হাতে সুপারিশ জমা দেওয়ার জন্য মোট ১৮ মাস সময় রয়েছে। আজকের বৈঠক থেকে তাৎক্ষণিক বেতন বৃদ্ধির কোনো সরকারি ঘোষণা আসার সম্ভাবনা নেই, তবে এটি চূড়ান্ত রিপোর্টের খসড়া তৈরির ক্ষেত্রে একটি অপরিহার্য পদক্ষেপ। কেন্দ্র সরকার দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মুদ্রাস্ফীতি এবং সরকারি কোষাগারের সক্ষমতা বিচার-বিশ্লেষণ করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
প্রশাসনিক কর্তাদের মতে, কলকাতার এই আলোচনায় প্রাপ্ত তথ্য এবং স্টেকহোল্ডারদের মতামত কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশের মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করবে। সরকার একদিকে কর্মীদের চাহিদাকে গুরুত্ব দিচ্ছে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চ্যালেঞ্জটিও সামলাতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে, কলকাতার এই বৈঠক কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের জীবনযাত্রায় এক নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বৈঠকের পরবর্তী পর্যায় এবং কমিশনের চূড়ান্ত রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে কর্মীরা। তবে এই আলোচনা যে কর্মীদের আশা ও চাহিদাকে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।