দিল্লির রোহিণীতে ভয়াবহ বিপর্যয়! নির্মীয়মাণ চারতলা ভবন ধসে মৃত ৩, ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কেউ?

দিল্লির রোহিণীতে এক ভয়াবহ বিপর্যয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সেক্টর ১৬ এলাকায় একটি নির্মীয়মাণ চারতলা ভবন আচমকাই ধসে পড়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩-এ। বৃহস্পতিবার দীর্ঘক্ষণের শ্বাসরুদ্ধকর উদ্ধারকাজ শেষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই মর্মান্তিক পরিণতির কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। বুধবার বিকেল থেকেই এই ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে রীতিমতো যুদ্ধকালীন তৎপরতা শুরু হয়েছিল।

ঘটনার সূত্রপাত বুধবার বিকেল ৪টা ২০ মিনিট নাগাদ। সেই সময় প্রবল বর্ষণে বিপর্যস্ত ছিল রাজধানী। এমসিডি স্কুলের কাছে জি-৪/১৫২ এবং জি-৪/১৫৩ নম্বর প্লটে গড়ে ওঠা ওই বহুতলটি হঠাৎই বিকট শব্দে ভেঙে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বৃষ্টির মধ্যেই হঠাৎ ভবনটি দুমড়ে-মুচড়ে মাটিতে মিশে যায়। ধ্বংসস্তূপের নিচে থেকে সাহায্যের জন্য আর্তনাদ ভেসে আসতেই স্থানীয় বাসিন্দারা জীবন বাজি রেখে উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। বিশেষ উদ্ধারকারী দল (DFS) পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা কোদাল, শাবল এমনকি খালি হাতেই ইট-পাথর ও লোহার রড সরিয়ে আটকে পড়া মানুষদের বের করে আনার চেষ্টা করেন।

দমকল বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মোট তিনজনকে উদ্ধার করে। এর মধ্যে দু’জনকে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। এর আগে ডিএফএস পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় বাসিন্দারা রাম কিশোর (৪২) নামের এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান, তবে সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো তিন। এছাড়া একজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তার চিকিৎসা চলছে।

বর্তমানে ওই এলাকায় উদ্ধারকাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। তবে সাবধানতা অবলম্বন হিসেবে দমকলের একটি দল এখনও ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছে, যাতে ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কেউ আটকে নেই তা নিশ্চিত করা যায়। ভবনটি ধসে পড়ার প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। প্রবল বৃষ্টিপাতই এই ধসের মূল কারণ কি না, তা নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে প্রশাসন। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, নির্মাণকাজে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশ। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্পত্তির মালিক এবং ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শোকস্তব্ধ নিহতদের পরিবার। দিল্লির এই নির্মাণ বিপর্যয় ফের একবার পুরোনো ও অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণ সংক্রান্ত সুরক্ষাবিধি নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল।