‘অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে বের করা হবে!’ মালদায় অনুপ্রবেশ রুখতেই হুঙ্কার অমিত শাহের, বাংলার সীমান্তে কড়া নজর

দেশের সীমানা সুরক্ষায় অনুপ্রবেশ ইস্যু নিয়ে এবার কার্যত রণমূর্তি ধারণ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কোলাপুরের জনসভা থেকে অমিত শাহ হুঙ্কার দিয়ে বলেছেন, “বাংলার সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ পুরোপুরি রুখে দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে লুকিয়ে থাকা প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে খুঁজে বের করা হবে।” প্রধানমন্ত্রীর মুখেও শোনা গেছে একই সুর। তারকেশ্বরের জনসভায় নরেন্দ্র মোদী তৃণমূল সরকারকে নিশানা করে বলেন, “কংগ্রেস, বামফ্রন্ট এবং তৃণমূল—দশকের পর দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গকে সাজানোর বদলে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের আড্ডায় পরিণত করেছে।”

প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য যে জমি হস্তান্তরের কাজ আগের সরকার দশকের পর দশক আটকে রেখেছিল, নতুন সরকার আসার ১২ দিনের মধ্যেই সেই ১৫ বছরের দীর্ঘ জটিলতা কেটেছে। রাজ্য সরকার এখন কাঁটাতার বসানোর কাজ ত্বরান্বিত করেছে। অন্যদিকে, পেট্রাপোল থানার নবনির্মিত ভবনটি নিয়ে দীর্ঘ টানাপোড়েনের অবসান ঘটল। ল্যান্ড পোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া সরকারিভাবে এই ভবনটি রাজ্য পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে, যা সীমান্তে নিরাপত্তা পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে, কেন্দ্রীয় নেতাদের এই কড়া বার্তার মধ্যেই মালদার শুখদেবপুর সীমান্তে বড়সড় সাফল্য পেল বিএসএফ এবং গ্রামবাসীরা। ওই এলাকার ১২০০ মিটার সীমান্ত এখনও কাঁটাতারবিহীন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ১৮-২০ জনের একটি অনুপ্রবেশকারী দল শুক্রবার রাতে ভারতে ঢোকার চেষ্টা করে। কিন্তু বিএসএফ এবং স্থানীয়দের তৎপরতায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। অনুপ্রবেশকারীরা সীমান্ত থেকে পিছু হঠতে বাধ্য হয়। এই ঘটনার পর এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে, সীমান্তে টহলদারি দ্বিগুণ করেছে বিএসএফ এবং পুলিশ স্থানীয় গ্রামে তল্লাশি শুরু করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অমিত শাহ এবং নরেন্দ্র মোদীর এই ধারাবাহিক আক্রমণ বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, পশ্চিমবঙ্গকে কেন্দ্র করে বিজেপি তাদের সীমান্ত সুরক্ষার নীতিতে কোনও আপস করতে নারাজ। অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কঠোরতা এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়ন—এই দুই অস্ত্রেই বিজেপি এখন বাংলার তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছে। সীমান্ত সুরক্ষায় আগের সরকারের গাফিলতিকে হাতিয়ার করে মোদী সরকার এখন তাদের নিজস্ব গতির উন্নয়নকে জনগণের সামনে তুলে ধরছে। সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত রাজনীতিতে অনুপ্রবেশ ইস্যু এখন প্রধান ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে।