আর ফ্রি নয় হোয়াটসঅ্যাপ! নতুন সাবস্ক্রিপশন ‘হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস’ আনল মেটা, জেনে নিন কত খরচ

এতদিন বিনামূল্যে পরিষেবা দেওয়ার পর অবশেষে বড় পদক্ষেপ নিল মেটা। ভারতের বাজারে হোয়াটসঅ্যাপ নিয়ে এল তাদের নতুন সাবস্ক্রিপশন প্ল্যান—‘হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস’। এতদিন আমরা যে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করতাম, তা পুরোপুরি বিনামূল্যে ছিল, কিন্তু এখন থেকে অ্যাপটির বিশেষ কিছু প্রিমিয়াম ফিচারের জন্য ব্যবহারকারীদের প্রতি মাসে ৭৯ টাকা খরচ করতে হবে। তবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের চিন্তার কোনো কারণ নেই, কারণ মেসেজিং, ভয়েস ও ভিডিও কল এবং এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনের মতো মূল পরিষেবাগুলো আগের মতোই বিনামূল্যে পাওয়া যাবে।

কী থাকছে ‘হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস’-এ?
এই নতুন সাবস্ক্রিপশন প্ল্যানটির মূল লক্ষ্য হলো ইউজার ইন্টারফেসকে নিজের পছন্দমতো সাজিয়ে নেওয়া বা কাস্টমাইজেশন। যেসব ইউজার অ্যাপের সাধারণ লুকে বিরক্ত, তাঁরা এই প্ল্যানটির মাধ্যমে নতুন নতুন কালার থিম ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া থাকছে পরিবর্তনযোগ্য অ্যাপ আইকন, বিশেষ নোটিফিকেশন সাউন্ড এবং এক্সক্লুসিভ স্টিকার প্যাক। সাধারণ হোয়াটসঅ্যাপে যেখানে চ্যাট পিন করার সীমাবদ্ধতা রয়েছে, সেখানে ‘হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস’-এ একসঙ্গে ২০টি চ্যাট পিন করে রাখা যাবে। পাশাপাশি চ্যাট লিস্ট সাজানোর ক্ষেত্রেও ইউজাররা পাবেন বাড়তি কন্ট্রোল।

কাদের জন্য এই প্ল্যান?
এই সাবস্ক্রিপশন প্ল্যানটি মূলত সেইসব ব্যবহারকারীদের জন্য, যারা হোয়াটসঅ্যাপের চেহারা বা কাস্টমাইজেশন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে ভালোবাসেন। যারা অ্যাপের নতুন ফিচারগুলো সবার আগে ব্যবহার করতে আগ্রহী, তাদের জন্য এই প্ল্যানটি দারুণ উপযোগী। তবে, যারা শুধু ব্যক্তিগত বা কাজের প্রয়োজনে সাধারণ মেসেজ ও কল করার জন্য হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন, তাদের জন্য এই প্ল্যানটি বাধ্যতামূলক নয়। এটি পুরোপুরি ঐচ্ছিক।

কীভাবে পাবেন এই ফিচার?
সারা দেশে একযোগে এই সুবিধা চালু করা হচ্ছে না। পর্যায়ক্রমে বা ধাপে ধাপে সব ইউজারের কাছে এই ফিচার পৌঁছাবে। আপনি আপনার হোয়াটসঅ্যাপের ‘Settings’ অপশনে গিয়ে ‘Subscription’ সেকশনে চেক করতে পারেন যে, আপনার অ্যাকাউন্টে ‘হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস’-এর অপশনটি এসেছে কিনা। নতুন ব্যবহারকারীরা বিশেষ সুবিধা হিসেবে প্রথম মাসটি বিনামূল্যে এটি ব্যবহার করার সুযোগ পাবেন। এরপর প্রতি মাসে ৭৯ টাকা সাবস্ক্রিপশন ফি প্রযোজ্য হবে।

মেটার এই নতুন পদক্ষেপ ডিজিটাল দুনিয়ায় হোয়াটসঅ্যাপের ব্যবহারিক ক্ষেত্রে এক বড় পরিবর্তন আনতে চলেছে। অ্যাপটিকে আরও আধুনিক এবং ব্যক্তিগত রুচি অনুযায়ী সাজানোর সুযোগ দেওয়ায় ব্যবহারকারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তবে প্রিমিয়াম পরিষেবার এই যুগে, হোয়াটসঅ্যাপের এই পথ চলা কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।