যোগ দিবসে মমতাকে ছাপিয়ে বড় বার্তা শুভেন্দুর! প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ বিরোধী দলনেতা

আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে রাজ্যজুড়ে যখন স্বাস্থ্যসচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে, ঠিক তখনই কলকাতার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নতুন মাত্রা যোগ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিন এক বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উপেক্ষা করেই রাজ্যবাসীর কাছে এক শক্তিশালী বার্তা দিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্ব ও দূরদর্শিতার ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি দাবি করলেন যে, প্রধানমন্ত্রীই আজ বিশ্বমঞ্চে ভারতের হারানো যোগ সংস্কৃতিকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

এদিন নিজের বক্তব্যে শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি অভিযোগ করেন যে, বিগত দিনে রাজ্যের শাসনভার যারা সামলেছেন, তারা যোগের মতো প্রাচীন ও স্বাস্থ্যকর ঐতিহ্যকে ইচ্ছাকৃতভাবেই বাংলার মাটি থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর কথায়, “বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল যোগ। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক সংকীর্ণতার কারণে এই অমূল্য সম্পদকে রাজ্য থেকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দায়িত্ব নেওয়ার পর আজ সেই হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার হয়েছে।”

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসা করে শুভেন্দু আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টাতেই আজ আন্তর্জাতিক যোগ দিবস বিশ্বজুড়ে এক উৎসবের রূপ নিয়েছে। তিনি কেবল দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক মহলেও যোগকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন। আজকের দিনে প্রতিটি দেশবাসী যখন যোগের সুফল গ্রহণ করছেন, তখন বাংলার মানুষকেও এই মূলধারার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানাব।”

রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। একদিকে যখন রেড রোডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে যোগ দিবস পালিত হচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধীদের এই সুর চড়ানোর ঘটনা রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে দিল। বিশেষ করে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপস্থিতিতে শুভেন্দু অধিকারীর এই ধরনের বক্তব্যকে বিশ্লেষকরা এক বিশেষ ‘রাজনৈতিক বার্তা’ হিসেবেই দেখছেন।

শুভেন্দুর এই দাবির পেছনে রাজনৈতিক মেরুকরণ স্পষ্ট। তিনি এদিন আরও বলেন যে, যোগ কেবল একটি শারীরিক কসরত নয়, এটি এক অনন্য জীবনদর্শন। বাংলাকে পুনরায় সুস্থ ও সবল করতে যোগের কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা ছিল পরিষ্কার—রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর দেখানো পথে হাঁটা এখন সময়ের দাবি। তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়াতেও শুরু হয়েছে তর্ক-বিতর্ক। একদিকে বিজেপি সমর্থকরা শুভেন্দুর এই সাহসী মন্তব্যের প্রশংসা করছেন, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনো কোনো পাল্টা প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও, রাজনৈতিক উত্তাপ যে বাড়ছে তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে বিরোধী দলনেতা আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে কোন নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারেন।