‘অজগর আসছে তেড়ে’ নয়, মানুষ তেড়ে গেল! বাঁকুড়ার গ্রামে তাড়া খেয়ে গাছে উঠল বিশাল রক পাইথন

বাঁকুড়া, গঙ্গাজলঘাটি: ‘অ এ অজগর আসছে তেড়ে’—এই পরিচিত ছড়ার বদলে বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটি ব্লকের জামগাড়ী গ্রামে দেখা গেল উলটো চিত্র। বিশালাকার রক পাইথনটিকে তাড়া করল মানুষ, আর সেই তাড়া খেয়ে সাপটি তরতরিয়ে একটি বেলগাছে উঠে আশ্রয় নিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

উদ্ধার অভিযান:

গ্রামের সংলগ্ন একটি ফাঁকা মাঠে সাপটিকে প্রথম দেখতে পান এক স্থানীয় বাসিন্দা। তিনি সাপটিকে তাড়ানোর চেষ্টা করলে সেটি দ্রুত পার্শ্ববর্তী গাছে উঠে যায়। গ্রামবাসীরা দীর্ঘক্ষণ ধরে নানা উপায়ে সাপটিকে নিচে নামাতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এরপর ঘটনাটি গঙ্গাজলঘাটি রেঞ্জ অফিসে জানানো হলে বন দফতরের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

বন দফতরের কর্মীরা আপ্রাণ প্রচেষ্টা করে যথাযথ পদ্ধতিতে সাপটিকে গাছ থেকে নামিয়ে উদ্ধার করেন। সাপ উদ্ধারের পুরো ঘটনাটি দেখতে জামগাড়ী গ্রামের অগণিত মানুষ ভিড় জমান।

অজগরের দৈর্ঘ্য ও ওজন:

বন দফতর সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া রক পাইথনটির দৈর্ঘ্য প্রায় সাত ফুট এবং ওজন প্রায় ১৪ কিলো ৫০০ গ্রাম। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের জন্য কিছুক্ষণ সাপটিকে রেঞ্জ অফিসে রাখা হয়। পরে বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটির গভীর জঙ্গলে এটিকে নিরাপদে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে বন দফতর জানিয়েছে।

অজগর ও শীতঘুম:

শীতকাল পড়তে চলেছে, আর শীতকাল ঢুকলেই সরীসৃপ প্রাণীরা হাইবারনেশন অর্থাৎ শীতঘুমে চলে যায়। অজগর সাপ তাদের অন্যতম। বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটি অঞ্চল অজগর সাপের জন্য একদম উপযুক্ত জায়গা। এই অজগর সাপ গাছে উঠে পাখির বাসা থেকে ডিম পেড়ে খায়, আবার হাঁস, মুরগি এবং গোটা ছাগল গিলে খাওয়ারও ক্ষমতা রাখে। হঠাৎ এই বিশালাকার সাপের দেখা মেলায় স্বাভাবিকভাবেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।