আইনের ছাত্রীর রহস্যমৃত্যু, কাকদ্বীপের মূল অভিযুক্ত আইনজীবী হায়দরাবাদ থেকে গ্রেফতার

গত সপ্তাহে কাকদ্বীপে এক আইনের ছাত্রীর দেহ আইনজীবীর চেম্বার থেকে উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। এই ঘটনার অন্যতম মূল অভিযুক্ত, আইনজীবী শেখ মানোয়ার আলমকে অবশেষে হায়দরাবাদ থেকে গ্রেফতার করল পুলিশ।
পুলিশি তৎপরতা:
ছাত্রীর দেহ উদ্ধারের পর থেকেই অভিযুক্ত আইনজীবী শেখ মানোয়ার আলম পলাতক ছিলেন। সুন্দরবন পুলিশ জেলার পুলিশ ঘটনার তদন্তে নামে এবং তেলেঙ্গানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। পুলিশ সূত্রে খবর, তেলেঙ্গানা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযুক্ত আইনজীবীর মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করা হয় এবং তাকে হায়দরাবাদ থেকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযুক্ত আইনজীবীকে ট্রানজিট রিমান্ডে কাকদ্বীপে নিয়ে আসা হচ্ছে।
পরিবারের বক্তব্য:
মৃত ছাত্রী সোনিয়া হালদারের (২১) বাবা অজয় হালদার অভিযুক্তের গ্রেফতার প্রসঙ্গে বলেন, “পুলিশ প্রশাসনের উপর আমার ভরসা ছিল। অবশেষে অভিযুক্ত আইনজীবী গ্রেফতার হয়েছে। আইনত ওই আইনজীবীর বিরুদ্ধে যা ব্যবস্থা নেওয়ার পুলিশ নেবে। আমরা চাই অভিযুক্ত আইনজীবীর যেন ফাঁসি হয়।”
ঘটনার পটভূমি:
গত ১৩ নভেম্বর কাকদ্বীপের আইনজীবী শেখ মানোয়ার আলমের চেম্বার থেকে প্রথম বর্ষের আইনের ছাত্রী সোনিয়া হালদারের দেহ উদ্ধার হয়। সোনিয়া হালদারের বাড়ি কাকদ্বীপ বিধানসভার অন্তর্গত প্রতাপাদিত্য নগর গ্রাম পঞ্চায়েতের নোয়াপাড়া এলাকায়।
পরিবার সূত্রে খবর, আইনের ছাত্রী হওয়ার সুবাদে ওই তরুণী কাকদ্বীপ কোর্টের আইনজীবী শেখ মানোয়ার আলমের কাছে প্র্যাকটিসের জন্য যেতেন। বুধবার সন্ধ্যায় পরিবারের কাছে খবর যায় যে আইনজীবীর চেম্বারের মধ্যে তাঁর মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছে। যুবতীর ব্যাগ থেকে কিছু চিঠিও উদ্ধার হয়। তরুণীর পরিবারের দাবি, ওই আইনজীবীর সঙ্গে সোনিয়ার সম্পর্ক ছিল, এবং সেই সম্পর্কের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক থাকায় আইনজীবী শেখ মানোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে লুক-আউট নোটিশ জারি করেছিল সুন্দরবন পুলিশ জেলা।
গ্রেফতারের পর অভিযুক্ত আইনজীবীকে কাকদ্বীপ থানার পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার পর কাকদ্বীপ মহকুমার আদালতে পেশ করবে।