রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে ফের চর্চায় মতুয়া ঠাকুরবাড়ি। এতদিন ‘অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘ’-এর নামে দুটি পৃথক কমিটি সক্রিয় ছিল— একদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর এবং অন্য দিকে তৃণমূল সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর ছিলেন সঙ্ঘাধিপতি। কিন্তু মঙ্গলবার নতুন করে তৃতীয় একটি কমিটি আত্মপ্রকাশ করল, যা এই রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
প্রাক্তন মন্ত্রী মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুর এই নতুন কমিটির ঘোষণা করেন, যার সঙ্ঘাধিপতি করা হয়েছে গাইঘাটার বিজেপি বিধায়ক সুব্রত ঠাকুরকে। নতুন সংগঠনের সভাপতি হয়েছেন বৈদ্যনাথ বালা, এবং কার্যকরী সভাপতি হিসেবে কৃষ্ণপদ মণ্ডল ও সৈকত মণ্ডলকে নিযুক্ত করা হয়েছে। সুব্রতর মায়ের ছবিানী ঠাকুরকে প্রধান উপদেষ্টা করা হয়েছে।
সুব্রত ঠাকুর স্পষ্ট জানান, “প্রয়োজনে পাঁচটা কমিটি হবে, কিন্তু মতুয়া মহাসঙ্ঘ উদ্বাস্তু ও পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য কাজ করে যাবে।” তাঁর পৃথক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “আগের সংগঠন ঠিকমতো পরিচালনা হচ্ছিল না। সমস্যা হচ্ছিল দালালদের নিয়ে, যা সংশোধন করতে না পারায় এই পদক্ষেপ নিতে হলো।”
এই নতুন ঘোষণায় শান্তনু ঠাকুর দূরত্ব বজায় রাখেননি। তিনি মন্তব্য করেন, “ঠাকুরবাড়ির সকলের সংগঠন করার অধিকার আছে। মতুয়ারা দ্বিধাবিভক্ত নয়।” অন্যদিকে, মমতাবালা ঠাকুর সুব্রতকে ‘বাড়ির বড় ছেলে’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “ওঁর অধিকার আগে, উনি নিজের অধিকার বুঝে নিয়েছেন।” বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচন, এমন পরিস্থিতিতে ঠাকুরবাড়ির এই নতুন বিভাজন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।





