“এবার বাংলায় রিগিং আর ছাপ্পামুক্ত ভোট”-TMC-কে ‘বিদায়’ করে কমিশনের পাল্টা হুঙ্কার!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগেই দিল্লি ও কলকাতার রাজনৈতিক পারদ এখন সপ্তমে। বুধবার দেশের নির্বাচন সদনে তৈরি হলো এক নজিরবিহীন পরিস্থিতি। তৃণমূল প্রতিনিধি দলের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে কথা বলতে গেলে তাঁদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। এমনকি তাঁদের ‘গেট লস্ট’ (বেরিয়ে যান) বলে অফিস থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও বিষ্ফোরক অভিযোগ করেছেন ডেরেক ও’ব্রায়েন।

ঠিক কী ঘটেছিল দিল্লিতে? সোমবার রাতে কমিশন প্রথম দফার ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ করেছে, যাতে দেখা যাচ্ছে বাংলা থেকে প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে সওয়াল করতে বুধবার সকাল ১০টায় নির্বাচন সদনে পৌঁছেছিলেন তৃণমূলের প্রতিনিধিরা। দলে ছিলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, সাগরিকা ঘোষ এবং সাকেত গোখলে। সাড়ে দশটা নাগাদ বেরিয়ে এসে ডেরেক ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন, “মুখ্য নির্বাচন কমিশনার আমাদের প্রশ্নের কোনও উত্তর দেননি। উল্টে আমাদের অপমান করে অফিস থেকে বের করে দিয়েছেন।”

কমিশনের কড়া পাল্টাচাল: তৃণমূলের অভিযোগের আবহে কিন্তু দমে যায়নি কমিশন। ডেরেকরা অফিস থেকে বেরোনোর মুহূর্তেই কমিশনের অফিসিয়াল এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে একটি বিষ্ফোরক পোস্ট করা হয়। সেখানে নাম না করে বাংলার শাসক দলকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে:

‘পশ্চিমবঙ্গের ভোট এ বার হিংসা, হুমকি, ভয়, প্রলোভন ও রিগিং ছাড়াই হবে। ছাপ্পা ভোট এবং বুথ জ্যামিং আমরা রুখেই ছাড়ব।’

২৭ লক্ষ ভোটার বনাম কমিশনের কড়াকড়ি: বিচারাধীন তালিকা থেকে বাদ পড়া ২৭ লক্ষ ভোটার নিয়ে তৃণমূল যখন সুর চড়াচ্ছে, তখন কমিশন সেই প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ বলে দাবি করছে। কমিশনের এই আক্রমণাত্মক মনোভাব ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এবারের নির্বাচনে বুথ লেভেলে নজরদারি হবে আরও কঠোর। দিল্লি থেকে কলকাতার রাজনীতি— এখন সবার নজর এই সংঘাতের জল কতদূর গড়ায় সেদিকে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy