“একই ফ্রেমে মোদী-মমতা!”-দুর্নীতি ও হিংসা নিয়ে মমতাকে বেনজির আক্রমণ রাহুলের

বাংলায় ভোটযুদ্ধের রণদামামা বেজে গিয়েছে। ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটের মাত্র ৯ দিন আগে উত্তরবঙ্গে পা রাখলেন কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। রায়গঞ্জের প্রথম সভা থেকেই তিনি স্পষ্ট করে দিলেন, এবারের লড়াইয়ে তাঁর নিশানায় যেমন দিল্লির বিজেপি সরকার, তেমনই তাঁর আক্রমণের তিরে বিদ্ধ নবান্নের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসও।

বিজেপির বাড়বাড়ন্তের জন্য দায়ী কে? এদিনের সভায় রাহুল গান্ধী সরাসরি অভিযোগ তোলেন যে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রবেশের পথ মসৃণ করে দিয়েছে তৃণমূল। তিনি বলেন, “তৃণমূল যদি নিজের কাজ ঠিকমতো করত আর হিংসা না ছড়াত, তবে বাংলায় বিজেপির চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যেত না। আসলে বিজেপির জন্য রাস্তা তৈরি করে দিচ্ছে তৃণমূলই।”

মোদী-মমতাকে এক সারিতে বসালেন রাহুল: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমণের পাশাপাশি তৃণমূলের শাসনকালকে দুর্নীতির আঁতুড়ঘর বলে তোপ দাগেন রাহুল। তাঁর আক্রমণের প্রধান পয়েন্টগুলি হলো:

  • শিল্প ও কর্মসংস্থান: রাহুলের দাবি, কমিউনিস্ট আর মমতা মিলে বাংলার শিল্প ধ্বংস করেছেন। ৫ লক্ষ চাকরির প্রতিশ্রুতি দিলেও ৮৪ লক্ষ বেকার এখনও ভাতার অপেক্ষায়।

  • চিটফান্ড ও দুর্নীতি: সারদা ও রোজ ভ্যালির আমানতকারীদের টাকা ফেরত না দেওয়া নিয়ে সুর চড়ান তিনি। কয়লা কেলেঙ্কারি থেকে ‘গুণ্ডা ট্যাক্স’— সব ইস্যুতেই বিঁধলেন শাসকদলকে।

  • হিংসা ও আরজি কর: রাজ্যে ক্রমাগত হিংসার পরিবেশ এবং আরজি করের মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনার কথা উল্লেখ করে মমতা সরকারকে কাঠগড়ায় তোলেন রাহুল।

কংগ্রেসের প্রচারের সুর: রাহুল গান্ধীর এই আক্রমণাত্মক মেজাজ বুঝিয়ে দিল, এই নির্বাচনে কংগ্রেস কোনো ‘বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াই’-এর পথে হাঁটছে না। বরং তৃণমূল ও বিজেপিকে মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ হিসেবে তুলে ধরাই এখন কংগ্রেসের প্রধান স্ট্র্যাটেজি। বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে সরাসরি শাসকদলকে চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত করা এবং বিজেপির ‘সুবিধাভোগী’ হিসেবে দেগে দেওয়া রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

প্রথম দফার ভোটের আগে রাহুলের এই ‘অল-আউট’ অ্যাটাক উত্তরবঙ্গের ভোটারদের মনে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy