মাউথওয়াশ ব্যবহারের উপকারিতা, শুধু ব্রাশ করলে কেন দাঁতের সমস্যা দূর হয় না?

ঘুম থেকে উঠে এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে—এই দুই সময়ে দাঁত ব্রাশ করার নিয়ম জানা সত্ত্বেও অনেকে মাড়ি থেকে রক্ত পড়া, মাড়ি ফুলে যাওয়া বা দাঁতে ব্যথার মতো সমস্যা এড়াতে পারেন না। এর প্রধান কারণ হলো, নিয়মিত ব্রাশ করা সত্ত্বেও মুখের ভেতরের অংশ পুরোপুরি পরিষ্কার না হওয়া। মুখের সার্বিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে দাঁত মাজার পাশাপাশি মাউথওয়াশ ব্যবহার করা জরুরি।

নিয়মিত মাউথওয়াশ ব্যবহারের গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতাগুলো নিচে দেওয়া হলো:

১. মাড়ি সুস্থ রাখে ও এনামেল মজবুত করে: মাউথওয়াশের অন্যতম প্রধান উপাদান হলো ফ্লুওরাইড (Fluoride)। এই উপাদানটি:

  • দাঁতের এনামেলের যত্ন নেয় এবং মাড়ি সুস্থ রাখে।

  • মাড়ি থেকে রক্ত পড়া বা মাড়ি ফুলে যাওয়ার মতো সমস্যার সমাধান করে।

  • দুর্বল এনামেলকে মজবুত করে, ফলে দাঁত পড়ে যাওয়া বা ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।

নিয়মিত মাউথওয়াশ দিয়ে কুলকুচি করলে মুখের ভিতরের অংশ সুস্থ থাকে এবং দাঁত ও মাড়িও সুরক্ষিত থাকে।

২. প্লাক দূর করে জীবাণুমুক্ত রাখে: খাবার খাওয়ার পর দাঁতের গোড়ার দিকে একটি আস্তরণ পড়ে, যা জমতে জমতে একসময় প্লাক (Plaque)-এর জন্ম দেয়। ব্রাশ দাঁতের সব জায়গায় পৌঁছাতে পারে না, ফলে প্লাক জমে যায়।

  • মাউথওয়াশ তরল হওয়ায় এটি মুখের সব কোণায় পৌঁছাতে পারে এবং প্লাক জমতে বাধা দেয়।

  • বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের মুখে প্রায় ১০ মিলিয়ন জীবাণু থাকে, যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে ৫০ মিলিয়নে পৌঁছাতে পারে। মাউথওয়াশ মুখের ভেতরটা পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করে।

সঠিক ব্যবহারের নিয়ম:

মাউথওয়াশ ব্যবহারের অর্থ এই নয় যে আপনি ব্রাশ করা বন্ধ করে দেবেন। মুখের ভেতরের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে আগের মতোই দুইবেলা দাঁত ব্রাশ করতে হবে। দাঁত ব্রাশ করার পরই মাউথওয়াশ ব্যবহার করার অভ্যাস করুন