গাড়িতে চড়লেই শিশুর বমি? ভোগান্তি বন্ধ! ভাতের মাড়, জিরা আর এলাচের এই ৫ ঘরোয়া টোটকায় মিরাকেল দেখুন!

কোনো কাজে বা শখের বসে ঘুরতে বের হলেন, আর আপনার সঙ্গে থাকা শিশুটি গাড়িতে চড়তেই বমি করে ভাসিয়ে দিলো—এমন অভিজ্ঞতা প্রায় অনেক অভিভাবকেরই হয়ে থাকে। যাত্রাপথে বমি হলে তা শুধু শিশুর জন্য নয়, সঙ্গে থাকা অভিভাবকের জন্যও চরম ভোগান্তির বিষয়।
শিশুর বমি করার ভয়ে তো তাকে বাড়িতে একা রেখে যেতে পারেন না! পরিচিত এই সমস্যার সমাধানে কিছু বুদ্ধি খাটালেই শিশু গাড়িতে চড়েও বমি করবে না, বরং পুরো যাত্রাপথে থাকবে ফুরফুরে। এর জন্য প্রথমে জানতে হবে কেন গাড়িতে চড়লে শিশুর বমি হয় (যা মূলত মোশন সিকনেস বা পেটের সমস্যার কারণে হয়)। এরপর তার সমাধান করতে হবে।
এখানে এমনকিছু ঘরোয়া উপায় জেনে নিন, যার মাধ্যমে সহজেই শিশুর বমি বন্ধ করা সম্ভব:
১. ভাতের মাড় ও লবণ এক কাপ চাল ভালো করে ধুয়ে তা দিয়ে ভাত তৈরি করে নিন। এরপর ভাতের মাড়টুকু সামান্য লবণ মিশিয়ে শিশুকে খেতে দিন। অনেক সময় শিশুর পেটে সমস্যার কারণে বমিভাব হয়ে থাকে; এমন সমস্যায় ভাতের মাড় ভালো কাজ করে।
২. জিরা গুঁড়ো বমি থামানোর ক্ষেত্রে জিরা অত্যন্ত উপকারী উপাদান। প্রথমে এক চা চামচ আস্ত জিরা শুকনো খোলায় ভালোভাবে টেলে (ভেজে) নিন। এরপর তা গুঁড়া করে হালকা গরম জলেতে মিশিয়ে শিশুকে খেতে দিন। এতে তার যাত্রাপথে বমি বন্ধ হবে।
৩. এলাচ চিবিয়ে খান বমি থামাতে কার্যকরী হতে পারে এলাচ। এই মসলার সুগন্ধ গা গোলানো বা মাথা ধরার ভাব অনেকটাই কমিয়ে দেয়। এলাচ চিবিয়ে খেলে বমি থামার পাশাপাশি অনেকটা সতেজ (ফ্রেশ) অনুভূত হবে।
৪. পেঁয়াজ ও আদার রস শিশুর বমি ভাব কমাতে পেঁয়াজের রস দারুণ কাজ করে। সেজন্য সম পরিমাণে পেঁয়াজ এবং আদার রস মিশিয়ে শিশুকে মাঝে মাঝে অল্প করে খাওয়ান। এতে তার গাড়িতে চড়লে বমির সমস্যা দূর হবে।
৫. লবঙ্গ ব্যবহার গাড়িতে চড়ার আগে শিশুর মুখে লবঙ্গ দিয়ে রাখতে পারেন। তাকে বলুন লবঙ্গটি যেন জিহ্বার নিচে রাখে। এর ফলে মুখে সুগন্ধ থাকার পাশাপাশি বমি, গ্যাস্ট্রিক, বুক জ্বালাপোড়া ও অস্বস্তি ইত্যাদি সমস্যা কমে যায়।
৬. দারুচিনি গুঁড়া (ঐচ্ছিক) আরেকটি উপকারী মসলা হলো দারুচিনি। সামান্য দারুচিনি গুঁড়া করে তা জলেতে ফুটিয়ে সেই জলটুকু শিশুকে খেতে দিন। এতে শিশুর বমির সমস্যা থাকলে তা সহজেই দূর হতে পারে।