মুখে টেপ লাগিয়ে ঘুমানোর রহস্য, আর্লিং হালান্ডের অভ্যাস কি আপনার স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী?

বিশ্বকাপ জ্বরে যখন ফুটবল দুনিয়া কাঁপছে, তখন তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চর্চার শেষ নেই। আলোচনার কেন্দ্রে এখন ম্যানচেস্টার সিটির গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড। মাঠে তার বিধ্বংসী ফর্মের রহস্য খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে এক অদ্ভুত অভ্যাস—তিনি নাকি মুখে টেপ লাগিয়ে ঘুমান! সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ‘মাউথ টেপিং’ ট্রেন্ডটি এখন তুমুল ভাইরাল। অনেকে দাবি করছেন, এটি ঘুমের গুণগত মান বাড়াতে জাদুর মতো কাজ করে। কিন্তু সত্যিই কি এটি বিজ্ঞানসম্মত? নাকি নিছকই একটি অবৈজ্ঞানিক প্রবণতা?

কেন মুখে টেপ লাগিয়ে ঘুমানোর দিকে ঝুঁকছেন মানুষ?
টিকটক বা ইনস্টাগ্রামের ভিডিওগুলো দেখলে মনে হতে পারে, এটিই বুঝি ভালো ঘুমের একমাত্র চাবিকাঠি। যদিও ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের মতো আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সংস্থাগুলো বলছে, এই পদ্ধতির পেছনে ক্লিনিক্যাল গবেষণার অভাব রয়েছে। তবুও মুখে টেপ লাগানোর অনুসারীরা এর বেশ কিছু সুবিধার কথা তুলে ধরেন:

১. বাতাস পরিশোধন: নাক দিয়ে শ্বাস নিলে বাতাস ফুসফুসে পৌঁছানোর আগে প্রাকৃতিক ছাঁকনি হিসেবে কাজ করে, যা ধূলিকণা ও অ্যালার্জেন আটকে দেয়।
২. তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ: নাকের পথ বাতাসকে উষ্ণ ও আর্দ্র রাখে, যা গলা শুকিয়ে যাওয়া রোধ করে এবং অস্বস্তি কমায়।
৩. নাক ডাকার সমাধান: মুখ বন্ধ রাখলে শ্বাসনালীর টিস্যুগুলো স্থির থাকে, ফলে নাক ডাকার সমস্যা অনেক কমে যায়।
৪. নাইট্রিক অক্সাইডের প্রভাব: নাক দিয়ে শ্বাস নিলে নাইট্রিক অক্সাইডের উৎপাদন বাড়ে, যা রক্তনালী প্রসারিত করে অক্সিজেনের প্রবাহ উন্নত করে।
৫. মৌখিক স্বাস্থ্য রক্ষা: মুখ দিয়ে শ্বাস নিলে লালা শুকিয়ে যায়, যা ব্যাকটেরিয়ার বংশবিস্তারের পথ খুলে দেয়। টেপ ব্যবহার করলে মুখ আর্দ্র থাকে, যা দাঁত ক্ষয় ও মুখের দুর্গন্ধ প্রতিরোধে কার্যকর।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা: বিপদ কোথায়?
হার্ভার্ড হেলথের বিশেষজ্ঞরা অত্যন্ত সতর্কবার্তার সঙ্গে জানিয়েছেন যে, ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এটি করা বিপজ্জনক হতে পারে। যাদের ‘অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া’ (OSA), নাকের হাড় বাঁকা (ডেভিয়েটেড সেপ্টাম) বা অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে মুখ টেপ দিয়ে বন্ধ রাখলে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গিয়ে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। এছাড়া, মুখে টেপ লাগালেই চোয়ালের আকৃতি বদলে যাবে—এই দাবির কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

যদি পরীক্ষা করতেই হয়:
আপনি যদি তবুও এই পদ্ধতিটি ব্যক্তিগতভাবে পরীক্ষা করে দেখতে চান, তবে সাধারণ সেলোটেপ বা ডাক টেপ কখনোই ব্যবহার করবেন না। এটি ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। সবসময় ছিদ্রযুক্ত, মেডিকেল-গ্রেড বা মাইক্রোপোর টেপ ব্যবহার করুন যা সহজেই ত্বক থেকে উঠে আসে। মনে রাখবেন, যেকোনো নতুন স্বাস্থ্য অভ্যাস শুরুর আগে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। আপনার স্বাস্থ্যের চেয়ে জনপ্রিয় ট্রেন্ড কখনো বড় হতে পারে না।