হাসপাতাল থেকেই অনশন ভাঙার শর্ত ওয়াংচুকের, সংসদমুখী মিছিল রুখল দিল্লি পুলিশ

সংসদের বাদল অধিবেশন চলাকালীন সংসদ ভবনের অদূরে রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে সাক্ষাতের দাবিতে সংসদমুখী বিক্ষোভকারীদের আটকাতে মরিয়া দিল্লি পুলিশ। বিজয় চকের কাছাকাছি এলাকায় বিক্ষোভকারীদের রুখতে কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটানো হয়েছে এবং জলকামান প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সংসদ চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা: সংসদ ভবনের সবকটি গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ত্রি-স্তরীয় নিরাপত্তা বলয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে বিজয় চক ও তৎসংলগ্ন এলাকা। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি ও গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন চলায় নিরাপত্তা নিয়ে বিন্দুমাত্র ঝুঁকি নিচ্ছে না প্রশাসন। বর্তমানে সংবাদমাধ্যম ও নিরাপত্তারক্ষী ছাড়া কাউকে ওই এলাকায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। ব্যারিকেডে বাধা পেয়ে আন্দোলনকারীরা সংসদ ভবনের গেটের অদূরেই অবস্থানে বসে পড়েছেন।
সোনম ওয়াংচুকের বার্তা ও অনশন: হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক আন্দোলন থেকে সরে আসতে নারাজ। তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, যেন তাঁকে কয়েক ঘণ্টার জন্য হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। তিনি দাবি করেছেন, তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি গণতান্ত্রিক অধিকার অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে শামিল হতে চান।
অনশন ভাঙার শর্ত: সোনম ওয়াংচুক তাঁর অনশন প্রত্যাহারের জন্য কিছু শর্ত আরোপ করেছেন:
NEET পরীক্ষা কেলেঙ্কারি ও শিক্ষাব্যবস্থার ব্যর্থতা নিয়ে সরকারকে সংসদীয় অধিবেশনে জবাবদিহি করতে হবে।
কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো প্রতিনিধিকে হাসপাতালে এসে আন্দোলনকারীদের দাবি পূরণের লিখিত আশ্বাস দিতে হবে।
এদিকে, সোনম ওয়াংচুকের অনুরোধে সাড়া দিয়ে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সোমবার তাঁর অনশন প্রত্যাহার করেছেন। তবে রাজধানী জুড়ে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির জেরে প্রশাসনিক চাপ ক্রমশ বাড়ছে।
(সম্পাদকীয় নোট: হাসপাতালের শয্যা থেকে রাজপথের আন্দোলন—সোনম ওয়াংচুকের এই ইস্যু এখন জাতীয় রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রে। সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে এই অচলাবস্থা কীভাবে কাটে, সেদিকেই তাকিয়ে আছে গোটা দেশ।)