৩০-এর আগেই কেন ফুরিয়ে আসছে ডিম্বাণু? নীরব ঘাতক ‘লো ওভারিয়ান রিজার্ভ’ নিয়ে সতর্ক হোন আজই!

বর্তমান সময়ে ক্যারিয়ার, পড়াশোনা বা ব্যক্তিগত কারণে দেরিতে মাতৃত্বের সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। এটি অস্বাভাবিক কিছু নয়, তবে এই সিদ্ধান্তের পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি—আর তা হলো ‘লো ওভারিয়ান রিজার্ভ’। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়, বয়সের তুলনায় ডিম্বাশয়ে প্রত্যাশার চেয়ে কম ডিম্বাণু থাকাকেই লো ওভারিয়ান রিজার্ভ বলা হয়। এটি কোনো রোগ নয়, তবে ভবিষ্যতের পরিবার পরিকল্পনার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় প্রভাবক হতে পারে।
লো ওভারিয়ান রিজার্ভ আসলে কী?
প্রতিটি নারী একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ডিম্বাণু নিয়ে জন্মগ্রহণ করেন, যা সময়ের সাথে সাথে পুনরুৎপাদন করা সম্ভব নয়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণমান স্বাভাবিকভাবেই কমতে থাকে। কিন্তু কিছু নারীর ক্ষেত্রে এই হ্রাস প্রত্যাশিত বয়সের অনেক আগেই ঘটে। এর মানে এই নয় যে গর্ভধারণ অসম্ভব, তবে এর সম্ভাবনা আগের চেয়ে কম হতে পারে।
লক্ষণ ও নির্ণয়:
শুরুতে অনেক নারীর মধ্যেই এর কোনো সুস্পষ্ট লক্ষণ থাকে না। তবে অনিয়মিত মাসিক বা দীর্ঘ সময় চেষ্টা করার পরও গর্ভবতী হতে ব্যর্থ হওয়া এর বড় সংকেত হতে পারে। চিকিৎসকরা সাধারণত অ্যান্টি-মুলারিয়ান হরমোন (AMH) পরীক্ষার মাধ্যমে ডিম্বাণুর অবশিষ্ট পরিমাণ অনুমান করেন। এছাড়া আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যানের মাধ্যমে ডিম্বাশয়ের ছোট ফলিকল গণনা করে রিজার্ভের অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়।
কেন ডিম্বাশয়ের রিজার্ভ কমে যায়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়সই এর প্রধান কারণ। ৩০ বছর বয়সের পর থেকে উর্বরতা ক্ষমতা কমতে শুরু করে এবং ৩৫-এর পর এই গতি আরও বাড়ে। তবে বয়সের পাশাপাশি জিনগত কারণ, এন্ডোমেট্রিওসিস, ডিম্বাশয়ের অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি এবং কিছু অটোইমিউন ডিসঅর্ডারও রিজার্ভ কমিয়ে দিতে পারে। ‘জার্নাল অফ হিউম্যান রিপ্রোডাক্টিভ সায়েন্সেস’-এর একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, ৩০ বছরের কম বয়সী প্রায় ২৯ শতাংশ নারীর শরীরেও প্রত্যাশার চেয়ে কম AMH মাত্রা পাওয়া গেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি প্রমাণ করে যে, ডিম্বাশয়ের বার্ধক্য আমাদের ধারণার চেয়েও দ্রুত গতিতে শুরু হতে পারে।
সচেতনতাই সমাধান:
ডিম্বাশয়ের রিজার্ভ কম থাকা মানেই মা হতে না পারা নয়। অনেকেই স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণ করেন, আবার অনেকের ক্ষেত্রে ফার্টিলিটি চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় হলে পরিকল্পনা করা সহজ হয়। যদিও সরাসরি কোনো খাবারের মাধ্যমে ডিম্বাণুর সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব নয়, তবে ধূমপান বর্জন, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস সামগ্রিক উর্বরতা বাড়াতে সাহায্য করে।
সবশেষে, এই পরিস্থিতি অনেক সময় নারীদের মধ্যে গভীর মানসিক চাপের সৃষ্টি করে। তাই ডিম্বাশয়ের রিজার্ভ নিয়ে উদ্বিগ্ন না হয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং প্রয়োজনে কাউন্সেলিংয়ের সহায়তা নিন। আপনার শরীর ও প্রজনন স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতনতাই আপনাকে ভবিষ্যতের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে। মনে রাখবেন, সময়মতো সচেতনতাই আপনার মাতৃত্বের স্বপ্নপূরণের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।