নিষিদ্ধ অরণ্যের অতল গভীরে কোন ভয়ংকর অভিশাপ? শিউরে ওঠার মতো থ্রিলার আসছে বড় পর্দায়!

টিনসেল টাউনের রূপোলি পর্দায় ফের জীবন্ত হয়ে উঠতে চলেছেন অকালপ্রয়াত জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। শুটিং করতে গিয়ে জলে তলিয়ে যাওয়ার মর্মান্তিক ও রহস্যজনক পরিস্থিতিতে তাঁর অকালপ্রয়াণ ঘটেছিল, যার সঠিক বিচার আজও মেলেনি। তবে মৃত্যুর আগে তিনি যে সমস্ত কাজ সম্পূর্ণ করে গিয়েছেন, তা একে একে দর্শকদের সামনে আসছে। ইতিপূর্বে ‘ছবিওয়ালা’ এবং ‘কাতুকুতু বুড়ো’ ছবির পর এবার তাঁর বহুমুখী অভিনয় প্রতিভা দেখতে পাওয়া যাবে নতুন সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ‘অটোবি’ ছবিতে। সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবির অফিসিয়াল পোস্টার ঘিরে ইতিমধ্যেই নেটদুনিয়ায় ব্যাপক কৌতূহল ও উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। রহস্যের হাতছানি দিয়ে তৈরি এই নতুন চলচ্চিত্রে রাহুল কীভাবে গল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকবেন, তা নির্মাতারা আপাতত দর্শকের জন্য এক দারুণ চমক হিসেবেই তুলে রেখেছেন।
রহস্য, মনস্তত্ত্ব এবং নিখাদ পারিবারিক আবেগের এক নিখুঁত ও রোমহর্ষক মিশেলে তৈরি হয়েছে নতুন এই বাংলা সিনেমাটি। ছবিটির নিবেদক ও প্রযোজক হলেন ডিকে. ভারতী, পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন উদীয়মান পরিচালক সৌমাভ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ছবির মনকাড়া সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন অমিত মিত্র। ‘অটোবি’ ছবির বিভিন্ন মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাবে মধুমিতা সরকার, ইনায়া চৌধুরী, সাহেব চট্টোপাধ্যায়, প্রয়াত রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তরুণ অভিনেতা আরিয়ান ভৌমিকের মতো একঝাঁক জনপ্রিয় তারকাকে।
সিনেমার মূল গল্প আবর্তিত হয়েছে দুই বোন ডিম্পল ও তানিয়াকে কেন্দ্র করে। শৈশবে ঘটে যাওয়া একটি মর্মান্তিক পারিবারিক ঘটনার মারাত্মক অভিঘাত তাদের স্বাভাবিক জীবনকে আমূল বদলে দেয়। সেই ঘটনার পর থেকেই ছোট বোন তানিয়ার প্রতি ডিম্পলের একনিষ্ঠ রক্ষাকবচ হয়ে ওঠার কঠিন অঙ্গীকার তার জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু বহু বছর পর আচমকাই পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রাম থেকে আসে এক দুঃসংবাদ—স্কুলশিক্ষিকা তানিয়া রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে তদন্তে জানা যায় যে, শেষবার তাকে ঝাড়গ্রামের অত্যন্ত দুর্গম এবং স্থানীয়দের কাছে ভীতিপ্রদ চামসুত্তি নামক এক নিষিদ্ধ অরণ্যে প্রবেশ করতে দেখা গিয়েছিল। স্থানীয় আদিবাসীদের দৃঢ় বিশ্বাস, এই জঙ্গল সাধারণ কোনো বনভূমি নয়, বরং এটি এক অলৌকিক ‘মায়াবী’ অরণ্য, যেখানে কোনো মানুষ প্রবেশ করলে বাস্তব জগত আর মনের ভ্রমের মধ্যকার সীমারেখা চিরতরে হারিয়ে ফেলে।
নিখোঁজ বোন তানিয়াকে জীবিত ফিরিয়ে আনতেই রাজধানী কলকাতা থেকে ঝাড়গ্রামে ছুটে যায় দিদি ডিম্পল। সেখানে গিয়ে তার সঙ্গে পরিচয় হয় চামসুত্তির গভীর রহস্য নিয়ে অনুসন্ধান করতে আসা এক বাংলাদেশি সাংবাদিক শাকিব এবং স্থানীয় জঙ্গল গাইড শমিকের। বন বিভাগের সমস্ত সতর্কবার্তা ও গ্রামবাসীদের বারণকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে সেই তিনজন দুঃসাহসিক মানুষ প্রবেশ করেন সেই নিষিদ্ধ ও কুখ্যাত অরণ্যের গহ্বরে। কিন্তু জঙ্গলের গভীরে পৌঁছনোর পর থেকেই যেন চারপাশের সবকিছু আমূল বদলে যেতে থাকে। সেখানে কাজ করা বন্ধ করে দেয় মানুষের সাধারণ যুক্তি, বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি, এমনকি নিজের মনস্তাত্ত্বিক স্থৈর্যও। ইতিমধ্যে মানসিক সমস্যার জন্য নিয়মিত ওষুধের ওপর নির্ভরশীল ডিম্পল জঙ্গলের মধ্যে হঠাৎই হারিয়ে ফেলে তার জীবনের অত্যন্ত জরুরি সেই ওষুধগুলি। এরপরই শুরু হয় এক অসহ্য মানসিক দুঃস্বপ্ন। বনের মধ্যে অদ্ভুত সব শব্দ, রহস্যময় ছায়া, অতীতের ভীতিপ্রদ বিভীষিকা এবং বাস্তব-অবাস্তবের সীমারেখা ক্রমশ ঝাপসা হতে থাকে। একই সঙ্গে বিদেশি সাংবাদিক শাকিবকে ঘিরেও চরিত্রটির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে তৈরি হতে থাকে একের পর এক জটিল প্রশ্ন।
একসময়ে ছোট বোনকে খুঁজে পাওয়ার সাধারণ উদ্ধারকার্য অভিযান সম্পূর্ণভাবে এক কঠিন ও নিষ্ঠুর বেঁচে থাকার লড়াইয়ে পরিণত হয়। সত্যিই কি চামসুত্তির অতল বুকে লুকিয়ে রয়েছে কোনো অলৌকিক ও অদৃশ্য শক্তি? নাকি মানব মনের গভীরতম অন্ধকার এবং অপরাধবোধই এই সমস্ত রহস্যের আসল উৎস? এই সমস্ত অমীমাংসিত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই প্রেক্ষাগৃহে আসছে ‘অটোবি’। ছবি প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তরুণ পরিচালক সৌমাভ বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী সুরে জানান, ” ‘অটোবি’ কেবল গতানুগতিক কোনো হরর বা থ্রিলার ছবি নয়, এটি মূলত মানুষের জটিল আবেগ, সুপ্ত ভয় এবং নিখাদ ভালোবাসার এক মনস্তাত্ত্বিক গল্প। আমরা এমন একটি সিনেমা তৈরি করার চেষ্টা করেছি, যেখানে রহস্যের রোমাঞ্চ যেমন অটুট থাকবে, তেমনই চরিত্রগুলোর গভীর মানসিক যাত্রাও দর্শকদের নাড়া দেবে। আমাদের বিশ্বাস, দর্শক শেষ দৃশ্য পর্যন্ত পর্দার সঙ্গে আবেগের সুতোয় শক্তভাবে বাঁধা থাকবেন।” মনস্তাত্ত্বিক রহস্য, পারিবারিক টানাপোড়েন এবং অরণ্যের অজানা আতঙ্ককে একসঙ্গে পর্দায় জীবন্ত করে তুলতে প্রস্তুত ‘অটোবি’। সদ্য প্রকাশিত অফিশিয়াল পোস্টার সেই ভয়ংকর রহস্যের কেবল একটি প্রাথমিক ঝলকমাত্র।