ডিএমকে-র নীতি বদল নিয়ে বিস্ফোরক কার্তি! এক দেশ এক নির্বাচন নিয়ে তুলকালাম!

জাতীয় রাজনীতিতে ফের চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে কংগ্রেস সাংসদ কার্তি চিদম্বরম সোমবার ডিএমকে (DMK)-র ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও নীতিগত বিষয়ে ডিএমকে কেন তাদের পূর্বের অবস্থান থেকে বারবার সরে দাঁড়াচ্ছে, সেই স্পষ্ট ব্যাখ্যা দলটির পক্ষ থেকেই দেওয়া উচিত। কার্তি চিদম্বরমের দাবি, ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ ব্যবস্থার প্রলোভনে পড়েই হয়তো ডিএমকে এমন অবস্থান পরিবর্তন করছে, যা তাদের আগামী দিনে রাজনৈতিকভাবে চরম বিপাকে ফেলতে পারে। একই সঙ্গে তিনি অযোধ্যার রাম মন্দির ট্রাস্টের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এর সিএজি (CAG) মারফৎ কঠোর অডিট এবং সংসদীয় আলোচনার দাবি জোরালোভাবে উত্থাপন করেছেন। আসন্ন সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা পরিধি বিল প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কংগ্রেস সাংসদ জানান, দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির স্বার্থ রক্ষা করতে ডিএমকে অতীতে যেভাবে বিরোধিতা করেছিল, এবারও তাদের সেই পুরনো অবস্থানেই অনড় থাকা উচিত। তিনি পরিসংখ্যান দিয়ে বোঝান যে, কাগজে-কলমে আসন বৃদ্ধির হার সমান মনে হলেও, সংখ্যার বিচারে উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের মধ্যে ব্যবধান মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাবে। উদাহরণস্বরূপ, উত্তরপ্রদেশ এবং তামিলনাড়ু-পুদুচেরির বর্তমান আসনের ব্যবধান যেভাবে বাড়বে, তাতে দক্ষিণ ভারতীয় রাজ্যগুলির রাজনৈতিক ওজন ও প্রতিনিধিত্ব তুলনামূলকভাবে অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়বে। কম জনসংখ্যা এবং বেশি কর দিয়েও যদি দক্ষিণ ভারতের সংসদীয় আসন কমে যায়, তবে তা যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী হবে। এছাড়াও লোকসভার সদস্য সংখ্যা ৮১৫-এ উন্নীত করার তীব্র বিরোধিতা করে কার্তি চিদম্বরম অত্যন্ত কড়া ভাষায় সতর্ক করেছেন। তাঁর মতে, বর্তমান ৫৪৩ জন সদস্য থাকতেই যেখানে জনপ্রতিনিধিরা সংসদে পর্যাপ্ত বলার সুযোগ পান না, সেখানে সদস্য সংখ্যা বাড়লে সংসদ কার্যকর বিতর্কের মঞ্চ হারিয়ে ফেলবে। স্পিকারের পক্ষেও সমস্ত নতুন সদস্যদের নাম বা মুখ মনে রাখা সম্ভব হবে না। এর ফলে ভারতীয় সংসদ ধীরে ধীরে চিনের আইনসভার মতো কেবল একটি ‘স্ট্যাম্পিং হাউস’ বা রবার স্ট্যাম্প সংস্থায় পরিণত হবে, যা কোনো সুস্থ ও শক্তিশালী গণতন্ত্রের লক্ষণ হতে পারে না।