পেঁপের বিভিন্ন জাত ও ছাদে চাষের উপযোগিতা

পেঁপের নানা জাতের মধ্যে রাচি, নউন ইউ, হানি ডিউ, ব্লুস্টেম, কাশিমপুরী, যশোরী, ছোট পেঁপে, শাহি পেঁপে এবং সংকর জাত অন্যতম। ছাদ বাগানের জন্য এই যে কোনও একটি জাত বেছে নিয়ে চাষ করা যেতে পারে।
পেঁপে চাষের মাটি ও পরিবেশ
দোঁআশ ও বেলে-দোঁআশ মাটি পেঁপে চাষের জন্য সবচেয়ে ভালো।
জল জমে থাকলে পেঁপে গাছের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়, তাই যেখানে চাষ করবেন সেখানে যেন জল না জমে।
পেঁপে গাছের ভালো বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত সূর্যালোকের প্রয়োজন।
কখন পেঁপের চারা রোপণ করবেন?
বীজ বপনের উপযুক্ত সময়: কার্তিক থেকে ফাল্গুন (নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি)।
চারা রোপণের উপযুক্ত সময়: চৈত্র থেকে বৈশাখ (মার্চ থেকে এপ্রিল)। তবে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরেও চারা রোপণ করা যায়।
পেঁপের চারা তৈরির সহজ পদ্ধতি
পেঁপের বীজ সংগ্রহ করে এক ঘণ্টা রোদে শুকিয়ে নিন।
এরপর এক দিন জলে ভিজিয়ে রাখুন।
জল ঝরিয়ে বীজগুলো ছাই মাখিয়ে নিন।
দুই ভাগ মাটি ও এক ভাগ শুকনো গোবর মিশিয়ে বীজতলায় বীজ বুনুন।
বীজতলা খড় বা ধানের কুঁড়ো দিয়ে ঢেকে সামান্য জল দিন।
১০-১২ দিনের মধ্যে চারা গজাতে শুরু করবে।
শীতের সময় চারা গজাতে বেশি সময় লাগতে পারে। পলিথিন ব্যাগে চারা বপন করলে দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
পেঁপে গাছের রোগ ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা
চারা-ধসা রোগ: বীজ রোপণের আগে ১৫-২০ মিনিট ছত্রাকনাশক দিয়ে শোধন করা উচিত।
গোড়া পচা রোগ: বীজতলা উঁচু জায়গায় তৈরি করলে ঝুঁকি কমে।
মোজাইক ভাইরাস: আক্রান্ত গাছ তুলে ফেলতে হবে এবং ভাইরাসমুক্ত বীজ ব্যবহার করতে হবে। জাব পোকা ও সাদা মাছি এ রোগ ছড়ায়, তাই কীটনাশক প্রয়োগ করা প্রয়োজন।
পরিচর্যা ও ফল সংগ্রহ
চারা রোপণের পর নিয়মিত পরিচর্যা করা না হলে গাছ মরে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। উন্নত মানের পেঁপে উৎপাদনের জন্য নিয়মিত জল দেওয়া, আগাছা পরিষ্কার করা ও সার প্রয়োগ করা প্রয়োজন।
4o