তীব্র দাবদাহে শরীর ঠান্ডা রাখতে ফুটির জুড়ি মেলা ভার। তরমুজের তুতো ভাই এই ফলটি জলীয় উপাদানে ঠাসা। তবে প্রশ্ন ওঠে তখনই, যখন একজন ডায়াবেটিস রোগী এই ফলটি খেতে চান। অনেক সময় শোনা যায়, মিষ্টি স্বাদের কারণে ফুটি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। আবার কেউ বলেন, এটি ডায়াবেটিসে অত্যন্ত উপকারী। আসল সত্যটি ঠিক কী? ডায়াবেটিস রোগীরা কি নিশ্চিন্তে ফুটি খেতে পারেন?
পুষ্টিবিদদের মতে, ফুটি বা মাস্কমেলন (Muskmelon) ভিটামিন সি, ভিটামিন এ এবং পটাশিয়ামের আধার। এতে প্রায় ৯০ শতাংশ জল থাকে, যা শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে প্রধান বিবেচ্য বিষয় হলো ফলের ‘গ্লাইসেমিক ইনডেক্স’ (GI)। ফুটির জিআই ভ্যালু কিছুটা বেশি (প্রায় ৬৫ থেকে ৭০)। উচ্চ গ্লাইসেমিক ইনডেক্স সম্পন্ন খাবার সাধারণত রক্তে দ্রুত চিনি বাড়িয়ে দেয়।
তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। ফুটির ‘গ্লাইসেমিক লোড’ (GL) যথেষ্ট কম। অর্থাৎ, আপনি যদি পরিমিত পরিমাণে ফুটি খান, তবে এটি রক্তে শর্করার মাত্রার ওপর খুব একটা বড় প্রভাব ফেলবে না। এর ফাইবার উপাদান হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়, যা চিনি সরাসরি রক্তে মিশতে বাধা দেয়। এছাড়া ফুটিতে থাকা অ্যাডিনোসিন নামক উপাদান রক্ত পাতলা রাখতে সাহায্য করে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়—ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য যা অত্যন্ত জরুরি।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, ডায়াবেটিস রোগীরা দিনে ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম ফুটি অনায়াসেই খেতে পারেন। তবে খাওয়ার সময় কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। ফুটি সরাসরি ফল হিসেবে চিবিয়ে খাওয়া সবচেয়ে ভালো। কারণ জুস করে খেলে এর ফাইবার নষ্ট হয়ে যায় এবং চিনি সরাসরি রক্তে মিশে যাওয়ার ভয় থাকে। দ্বিতীয়ত, ফুটির ওপর আলাদা করে নুন বা চিনি ছড়িয়ে খাবেন না। সবচেয়ে ভালো হয় যদি ফুটি সকালের জলখাবার বা বিকেলের স্ন্যাক্স হিসেবে খাওয়া যায়। দুপুর বা রাতের ভারী খাবারের পরপরই ফল খাওয়া এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
পরিশেষে বলা যায়, ডায়াবেটিস মানেই পছন্দের ফল বন্ধ নয়। শুধু পরিমাণ এবং সময়ের দিকে নজর রাখলেই আপনি এই গ্রীষ্মকালীন ফলের স্বাদ নিতে পারবেন নিরাপদে।





