‘হেরা ফেরি ৩’ নিয়ে আইনি যুদ্ধ! অক্ষয়ের কড়া নোটিশে বিপাকে প্রযোজক, বড় ঘোষণা প্রযোজনা সংস্থার

বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় এবং মাইলস্টোন কমেডি ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘হেরা ফেরি’। রাজু, শ্যাম এবং বাবুরাও—এই তিন চরিত্রের অনস্ক্রিন ম্যাজিক দেখার জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষায় আছেন কোটি কোটি দর্শক। কিন্তু সেই বহু প্রতীক্ষিত ‘হেরা ফেরি ৩’ সিনেমাটিকে ঘিরে বিতর্কের মেঘ যেন কাটছেই না। এবার ছবির স্বত্ব নিয়ে তৈরি হওয়া নতুন আইনি মোড় সিনেমাটিকে এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিল। অভিনেতা অক্ষয় কুমারের নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা ‘কেপ অফ গুড ফিল্মস’ সিনেমাটির বিশ্বব্যাপী একচ্ছত্র স্বত্ব দাবি করে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির উদ্দেশ্যে একটি কড়া প্রকাশ্য নোটিশ জারি করেছে। এই আইনি হুঁশিয়ারির পর বি-টাউনের অন্দরে রীতিমতো শোরগোল শুরু হয়েছে।
প্রযোজনা সংস্থার জারি করা ওই পাবলিক নোটিশে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, ‘হেরা ফেরি ৩’ সিনেমাটির প্রযোজনা, বণ্টন, বিপণন এবং বাণিজ্যিক ব্যবহারের যাবতীয় এবং একমাত্র আইনগত অধিকার ‘কেপ অফ গুড ফিল্মস এলএলপি’-র কাছে সংরক্ষিত। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, সিনেমা হল মালিক, ডিস্ট্রিবিউটর, টেলিভিশন চ্যানেল থেকে শুরু করে কর্পোরেট বিজ্ঞাপনদাতা—কাউকেই অক্ষয়ের সংস্থার লিখিত অনুমতি ছাড়া এই ছবি সংক্রান্ত কোনো প্রকার চুক্তি বা আর্থিক লেনদেন না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে আরও সতর্ক করে বলা হয়েছে, যদি কোনো তৃতীয় পক্ষ এই ছবির কপিরাইট বা স্বত্ব দাবি করে মাঠে নামে, তবে তাদের সঙ্গে হাত মেলালে তা সম্পূর্ণ বেআইনি বলে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছবিটির ভাগ্য আসলে প্রথম থেকেই বেশ টালমাটাল। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের মে মাসে অভিনেতা পরেশ রাওয়াল আচমকাই ছবি থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন, যদিও পরবর্তীকালে তিনি সেই সিদ্ধান্ত বদল করেন। তবে বিতর্ক সেখানে থামেনি। সম্প্রতি ছবির মূল কারিগর ও পরিচালক প্রিয়দর্শন এই সিনেমা থেকে পাকাপাকিভাবে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। প্রযোজক ফিরোজ নাদিয়াদওয়ালার সঙ্গে তাঁর তীব্র মতবিরোধ এবং অসম্মানিত বোধ করার কারণেই তিনি আর এই প্রজেক্টের সঙ্গে যুক্ত থাকতে চান না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
অক্ষয় কুমার, সুনীল শেট্টি এবং পরেশ রাওয়ালের সেই আইকনিক ত্রয়ীকে বড় পর্দায় ফিরিয়ে আনার জমকালো পরিকল্পনা এখন একাধিক আইনি জটিলতা এবং অভ্যন্তরীণ বিবাদের জালে আটকা পড়েছে। অক্ষয়ের প্রযোজনা সংস্থার এই আইনি পদক্ষেপের পর ছবির কাজ আদৌ কতদূর এগোবে, নাকি ‘হেরা ফেরি ৩’-এর স্বপ্ন চিরতরে বিশ বাঁও জলে চলে যাবে, এখন সেটাই লাখ টাকার প্রশ্ন। দর্শকদের ধৈর্য এখন ধৈর্যের বাঁধ ভাঙার উপক্রম।