‘স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নিয়ে মন্তব্য বরদাস্ত নয়!’-তবে কোন আইনি মারপ্যাচে স্বস্তি পেলেন রাহুল গান্ধী?

বিনায়ক দামোদর সাভারকরকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে উত্তরপ্রদেশে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলা খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে। উত্তরপ্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি বা স্যাংশন না দেওয়ায় শীর্ষ আদালত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
২০২২ সালে ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’ চলাকালীন মহারাষ্ট্রে সাভারকর সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছিল রাহুলের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার জেরে লখনৌয়ের বাসিন্দা নৃপেন্দ্র পান্ডে রাহুলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার ভিত্তিতে নিম্ন আদালত কংগ্রেস নেতার নামে সমন জারি করেছিল। নিম্ন আদালতের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন রাহুল। এর আগে শীর্ষ আদালত এই মামলায় রাহুলকে সতর্ক করলেও সমনের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেছিল।
শুক্রবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত উত্তরপ্রদেশ সরকারের অবস্থানের বিষয়ে জানতে চান। রাজ্য সরকারের পক্ষে সওয়াল করা কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল কে এম নটরাজ আদালতকে জানান যে, এই মামলার বিচার শুরুর জন্য রাজ্য সরকার কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমতি দেয়নি। এর পরেই বিচারপতি দত্ত স্পষ্ট করে জানান, নিয়ম অনুযায়ী ফৌজদারি মামলা চালাতে গেলে সরকারের অনুমতি বাধ্যতামূলক। যেহেতু সেই অনুমোদন নেই, তাই আইনগতভাবে এই মামলার আর কোনো অস্তিত্বই থাকতে পারে না। আদালতের এই রায়ের ফলে নিম্ন আদালতের জারি করা সমনও সম্পূর্ণ বাতিল হয়ে গিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ভারত জোড়ো যাত্রার সময়ে রাহুল গান্ধী দাবি করেছিলেন যে, সাভারকর ব্রিটিশদের সাহায্য করেছিলেন এবং ইংরেজদের কাছে ক্ষমা চেয়ে চিঠি লিখেছিলেন। ওই মন্তব্য ঘিরেই দেশজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক দানা বাঁধে এবং মামলা গড়ায় আদালত পর্যন্ত। এর আগে শুনানির সময়েও সুপ্রিম কোর্ট রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের সমালোচনা করে জানিয়েছিল যে, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নিয়ে দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য বরদাস্ত করা হবে না। তবে শেষ পর্যন্ত আইনি প্রক্রিয়ার ত্রুটির কারণে মামলাটি খারিজ হয়ে যাওয়ায় বড় স্বস্তি পেলেন কংগ্রেস সাংসদ।