বেতন ও ডিএ নিয়ে বড় সতর্কবার্তা দিল সপ্তম বেতন কমিশন, জানুন আপডেট

সপ্তম বেতন কমিশন তাদের সুপারিশ জমা দিল কি না বা ইন-হ্যান্ড স্যালারি কত বাড়তে চলেছে— এই ধরনের নানা তথ্য জানার জন্য রাজ্য সরকারি কর্মীরা এতদিন প্রধানত সোশ্যাল মিডিয়ার ওপরই ভরসা করতেন। আর তার জেরে জল্পনা এবং বিভ্রান্তিও তৈরি হতো চরমে। অবশেষে এই সমস্যা পাকাপাকিভাবে মেটাতে বড় পদক্ষেপ নিল কমিশন। সরকারি তথ্য এবং নিজেদের কাজকর্মের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবার একটি পৃথক ও নিজস্ব অফিশিয়াল ওয়েবসাইট চালুর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সপ্তম বেতন কমিশন। সোমবার নবান্নে অনুষ্ঠিত কমিশনের প্রথম বৈঠকেই এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কী থাকবে এই নতুন ওয়েবসাইটে?
কমিশনের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই এই ওয়েবসাইটটি চালু করা হবে। নতুন এই পোর্টালে রাজ্য সরকারের সমস্ত বিজ্ঞপ্তি (Notification), কাজের অগ্রগতি (Progress Report), বিভিন্ন বিষয়ে মতামত এবং বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া স্মারকলিপি সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য পাওয়া যাবে। এর ফলে সরকারি কর্মীরা আর কোনো বিভ্রান্তিকর গুজবে কান না দিয়ে সরাসরি একটি নির্ভরযোগ্য ও অনুমোদিত উৎস থেকেই সমস্ত সঠিক তথ্য জানতে পারবেন।
বেতন বা ডিএ নিয়ে এখনও কোনো সুপারিশ নয়: কমিশন
এদিনের বৈঠকে কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, এখনও পর্যন্ত বেতন, ভাতা বা পেনশন সংক্রান্ত কোনো চূড়ান্ত সুপারিশ তাঁরা সরকারের কাছে জমা দেয়নি। তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভুয়ো নথি বা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সরকারি কর্মী ও সংশ্লিষ্ট সকল মহলে কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি, সোমবারের এই প্রথম বৈঠকে বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা, বিভিন্ন সংস্থা, কর্পোরেশন ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলির বর্তমান আর্থিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হয়। একইসঙ্গে কমিশনের সামগ্রিক কাজের রূপরেখাও চূড়ান্ত করা হয়েছে।
কোন কোন বিষয়গুলি খতিয়ে দেখছে কমিশন?
সপ্তম বেতন কমিশনের আওতায় রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পর্যালোচনার টেবিলে রয়েছে:
বেতন ও মহার্ঘ ভাতা (DA): বর্তমান বেতন কাঠামো, মহার্ঘ ভাতা (DA), বিভিন্ন বিশেষ ভাতা, যাতায়াত ভাতা এবং কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ-র বিদ্যমান ব্যবধান কমানোর বিষয়গুলি খতিয়ে দেখছে কমিশন।
ইনক্রিমেন্ট ও পদোন্নতি: বর্তমানে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হার ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে। পাশাপাশি পদোন্নতির নীতিও পর্যালোচিত হবে।
পেনশন ও অবসরকালীন সুবিধা: অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পেনশন সংশোধনের পদ্ধতি এবং অন্যান্য অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধাগুলিও এই কমিশনের পরিধির অন্তর্ভুক্ত।
নতুন এই ওয়েবসাইট চালুর ফলে এখন থেকে সমস্ত আপডেট সরাসরি কর্মীরা জানতে পারবেন, যা জল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রক্রিয়াটিকে আরও স্বচ্ছ করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।