অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলার বড় মোড়! সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল-জবাবে আটকে গেল ইডি?

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা আদালতে সম্পূর্ণ তথ্য দিচ্ছে না—এই অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে জোরালো সওয়াল করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের আইনজীবী তথা প্রবীণ কংগ্রেস নেতা কপিল সিব্বল। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এম. এম. সুন্দরেশ এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি. ভারালের ডিভিশন বেঞ্চে তৃণমূল কংগ্রেসের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ সংক্রান্ত মামলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এদিনের শুনানিতে তৃণমূলের পক্ষ থেকে দলের দৈনন্দিন কাজকর্ম ও পার্টি চালাতে মাসিক খরচের বিস্তারিত খতিয়ান আদালতে তুলে ধরা হয়।

আইনজীবী কপিল সিব্বল সওয়াল করতে গিয়ে জানান যে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির তরফে দাবি করা হচ্ছে দলের বাকি অ্যাকাউন্টে ১৬৪ কোটি টাকা রয়েছে এবং সেখান থেকে খরচ চালানো সম্ভব। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি আদালতকে জানান যে বাজেয়াপ্ত করা বা যে ৩৬টি অ্যাকাউন্টের কথা বলা হচ্ছে, তার মধ্যে ৩১টিই হলো ফিক্সড ডিপোজিট এবং বাকি ৫টি সাধারণ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। যদি সেই ফিক্সড ডিপোজিট ভাঙা হয়, তবে সেই সমস্ত অর্থ সরাসরি বাজেয়াপ্ত হওয়া অ্যাকাউন্টে চলে যাবে। এর মধ্যে চারটি অ্যাকাউন্ট সম্পূর্ণ বন্ধ করে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। কপিল সিব্বলের আরও দাবি, তদন্তকারী সংস্থার দাখিল করা মামলা অনুযায়ী ‘প্রসিড অফ ক্রাইম’ বা অপরাধলব্ধ অর্থের পরিমাণ ৬০ কোটি টাকা হলেও তারা ব্যাংকগুলোতে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা আটকে বা বাজেয়াপ্ত করে রেখেছে। কেন এই অতিরিক্ত টাকা বাজেয়াপ্ত করে রাখা হবে, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি জানান যে দলের প্রায় আড়াইশো জন কর্মচারীকে এই মাসে নিয়মমতো বেতন দেওয়া সম্ভব হয়নি।

তৃণমূলের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে কপিল সিব্বল জানান যে শুধুমাত্র কর্মচারীদের বেতন এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ মেলাতেই প্রতিমাসে প্রায় ৫৩ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা প্রয়োজন হয়। এছাড়া ১৭টি পার্টি অফিসের রক্ষণাবেক্ষণ, চুক্তিভিত্তিক কর্মী ও সিকিউরিটি এজেন্সির পেমেন্ট এবং নির্বাচনী কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বকেয়া মেটানোর জন্য প্রতিমাসে আনুমানিক এক কোটি টাকা খরচ রয়েছে। এমনকী দলীয় কাজের জন্য যে সংস্থা থেকে এয়ারক্রাফ্ট বা বিমান নেওয়া হয়েছিল, সেই কোম্পানির অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

অন্যদিকে, ইডির তরফে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী এস ভি রাজু আদালতে জানান যে ইন্ডিয়ান ব্যাংকে থাকা কিছু অ্যাকাউন্টে ইডি কোনও ধরনের হস্তক্ষেপ করেনি এবং গত ৯ জুলাইয়ের নির্দেশে হাইকোর্ট দৈনন্দিন খরচের জন্য নির্দিষ্ট নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া কে প্রকৃত তৃণমূল, তা নিয়ে দলের অন্দরেই দ্বন্দ্ব চলছে বলে দাবি করা হয়। শুনানির শেষে বিচারপতি সুন্দরেশ পর্যবেক্ষণ দেন যে কলকাতা হাইকোর্টের ৯ জুলাইয়ের নির্দেশই যথাযথ এবং টাকা ব্যবহারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কলকাতা হাইকোর্ট কর্তৃক নিযুক্ত স্পেশাল অফিসার। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে মমতাপন্থী তৃণমূল শিবির সাময়িক স্বস্তি পেল।