‘কী গাঞ্জাওয়ালা, মাল আছে নাকি?’ পদবির জন্য আজও কটাক্ষের শিকার গায়ক কুণাল! অবশেষে ফাঁস করলেন কোন গোপন সত্য?

বলিউড থেকে শুরু করে টলিউড— ভারতের সঙ্গীত জগতে বহু জনপ্রিয় ও কালজয়ী গানে নিজের জাদুকরী কণ্ঠের জাদুতে অগণিত অনুরাগীদের মন জয় করে নিয়েছেন প্রখ্যাত প্লেব্যাক গায়ক কুণাল গাঞ্জাওয়ালা। তাঁর রোমান্টিক এবং চনমনে সুরের জাদুতে বুঁদ থাকে গোটা দেশ। তবে সুমধুর গলার সুর এবং অসাধারণ গায়কীর পাশাপাশি তাঁর এই অদ্ভুত ও ব্যতিক্রমী পদবি ‘গাঞ্জাওয়ালা’ নিয়ে শ্রোতা এবং অনুরাগীদের মহলে কৌতূহল ও নানা আলোচনার অন্ত নেই। অনেকেই নিছক বন্ধুত্বের ছলে, মজার ছলে কিংবা কখনও বা কটাক্ষের সুরে এই পদবি নিয়ে নানা কৌতুক করে থাকেন। কিন্তু এই অস্বাভাবিক পদবির পেছনে যে লুকিয়ে রয়েছে বহু পুরনো এক পারিবারিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, সম্প্রতি এক একান্ত সাক্ষাৎকারে সেই সমস্ত অজানা ও চাঞ্চল্যকর রহস্য প্রকাশ্যে এনেছেন খোদ গায়ক।

কুণাল এক সাক্ষাৎকারে বিস্তারিতভাবে জানান যে, ব্রিটিশ শাসনকালের সেই উত্তাল সময়ে তাঁর পূর্বপুরুষেরা চিকিৎসার প্রয়োজনে নিয়মিত গাঁজা চাষ করতেন। তবে বর্তমান সময়ের মতো সেই চাষ কোনও অবৈধ বা বেআইনি বিষয় ছিল না; বরং তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের নির্দিষ্ট নিয়মনীতি এবং আইনি অনুশাসন মেনেই প্রাতিষ্ঠানিক ও চিকিৎসাগত কাজের উদ্দেশ্যে তা मोठ्या পরিসরে উৎপাদন করা হত। গায়কের দাবি অনুযায়ী, ১৯৪২ সালের ঐতিহাসিক ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের বহু বছর আগে থেকেই তাঁর পরিবার এই বিশেষ পেশার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিল। সেই সময় উৎপাদিত সমস্ত সামগ্রী সরাসরি সরবরাহ করা হত ব্রিটিশ সরকারের কাছে। রাজকীয় সেই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁর পরিবারকে সরকারিভাবে কর-ছাড়ের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছিল এবং ব্রিটিশ সরকার তাঁর পূর্বপুরুষদের মর্যাদাপূর্ণ ‘রাও সাহেব’ উপাধিতেও ভূষিত করেছিল।

শুধু তা-ই নয়, কুণাল আরও অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে জানান যে তাঁর পরিবারের সদস্যরা সেই সময়ে সরকারিভাবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ফার্মাসিস্ট বা ওষুধ প্রস্তুতকারক হিসেবে দেশজুড়ে স্বীকৃত ছিলেন। তৎকালীন যুগে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন ধরনের জীবনদায়ী ওষুধ তৈরিতে তাঁদের উৎপাদিত কাঁচামাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। পরবর্তীতে ব্রিটিশ বিরোধী ক্ষোভ এবং ১৯৪২ সালের উত্তাল ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের সময় থেকেই এই ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক ব্যবসার সম্পূর্ণ ইতি ঘটে।

নিজের পারিবারিক ও জাতিগত পরিচয়ের উল্লেখ করতে গিয়ে গায়ক পরিষ্কার জানান যে তিনি মূলত ঐতিহাসিক ‘বালোচি হিন্দু’ সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। তবে বংশের পদবির ইতিহাস এত সমৃদ্ধ এবং ঐতিহাসিক হওয়া সত্ত্বেও গায়ক কুণাল গাঞ্জাওয়ালােক জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রায়শই নানা অস্বস্তিকর রসিকতা ও ঠাট্টার মুখোমুখি হতে হয়। অনেকে রাস্তাঘাটে বা অনুষ্ঠানে হাসাহাসি করে তাঁর দিকে সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দেন, “কী গাঞ্জাওয়ালা, মাল আছে নাকি?” তবে এসব কুরুচিকর বা হাস্যকর প্রশ্নে বিন্দুমাত্র ক্ষুণ্ণ না হয়ে চরম পেশাদারিত্বের সঙ্গে স্রেফ হেসেই উড়িয়ে দেন গায়ক। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, বংশের পদবির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট যা-ই হোক না কেন, তিনি ব্যক্তিগত জীবনে সম্পূর্ণভাবে নেশামুক্ত এবং কখনই কোনো ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য স্পর্শও করেন না।