রাজনীতি থেকে সোজা স্ট্যান্ডিং কমিটির প্রধান! টলিউডের কোন তারকার কাঁধে এল এই বিশাল দায়িত্ব?

রাজনীতি এবং অভিনয়— এই দুই সম্পূর্ণ ভিন্ন ক্ষেত্রকে একসূত্রে বেঁধে অত্যন্ত সফলভাবে পথ চলছেন জনপ্রিয় অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষ। এবার তাঁর কাঁধে এসে পড়ল এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় দায়িত্ব। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের ‘ইনফরমেশন অ্যান্ড কালচারাল অ্যাফেয়ার্স, স্পোর্টস অ্যান্ড ইয়ুথ সার্ভিস’ স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান পদে আনুষ্ঠানিকভাবে নিযুক্ত হলেন এই তারকা। টলিউডের সার্বিক কর্মকাণ্ড, কলাকুশলীদের স্বার্থরক্ষা এবং সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের উন্নয়নে এর আগেও দলীয় নেতৃত্ব তাঁকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছিল। তবে এবার এই নতুন প্রশাসনিক পদ তাঁর রাজনৈতিক ঝুলিতে যুক্ত হওয়ায় রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে এক নতুন আলোচনার ঝড় উঠেছে।

রাজনৈতিক ময়দানে সক্রিয়ভাবে পা রাখার পর থেকেই সংগঠনের ভিত শক্ত করার পাশাপাশি বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে নিজেকে সামনের সারিতে রেখেছেন রুদ্রনীল। বিগত বিধানসভা নির্বাচনে শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সময় থেকেই তিনি এলাকার নানাবিধ নাগরিক সমস্যা এবং উন্নয়নের দাবিতে সবসময় সোচ্চার থেকেছেন। পাশাপাশি, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারী ও হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের মতো সহকর্মী শিল্পীদের সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে টলিপাড়ার নানা পেশাগত ও সামাজিক সমস্যা এক ছাতার তলায় সমাধানের গুরুদায়িত্বও তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সামলাচ্ছেন। এবার এই স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে সংস্কৃতি জগতের সার্বিক উন্নয়ন, পরিকাঠামো গঠন এবং সমন্বয় সাধনে আরও বড় ও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করার সুযোগ পেলেন রুদ্রনীল ঘোষ।

অন্যদিকে, রাজ্য রাজনীতির ব্যস্ততা এবং সাংগঠনিক দায়িত্বের পাশাপাশি নিজের অতি চেনা ময়দান অর্থাৎ রূপোলি পর্দাতেও এক দুর্দান্ত ও জাঁকজমকপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছেন এই অভিনেতা। সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর বড় পর্দায় তাঁর উপস্থিতি কিছুটা সীমিত হয়ে পড়েছিল বটে, তবে এবার একাধিক অত্যন্ত আকর্ষক ও বড় বাজেটের প্রজেক্ট নিয়ে তিনি পুনরায় শুটিং ফ্লোরে ফিরছেন। খুব শীঘ্রই তাঁকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে সৃজিত মুখোপাধ্যায় পরিচালিত বহুচর্চিত ছবি ‘মহারাজা তোমারে সেলাম’-এ। উল্লেখ্য, এর আগে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় ও রাইমা সেনের বিপরীতে ‘আবার হাওয়া বদল’ ছবির মাধ্যমেই দর্শক তাঁকে বড় পর্দায় শেষবার পূর্ণাঙ্গ অভিনয়ে দেখেছিলেন।

জনগণের পরিসেবা, প্রশাসনিক গুরুদায়িত্ব এবং সেলুলয়েডের উজ্জ্বল ফোকাস লাইট— এই সমস্ত দিক নিখুঁতভাবে একসঙ্গে সামলে রুদ্রনীল ঘোষ কীভাবে তাঁর এই একেবারে নতুন ইনিংস সফল করে তোলেন, এখন সেদিকেই গভীর নজর রয়েছে টলিপাড়ার অন্দরমহল থেকে শুরু করে রাজ্য রাজনৈতিক মহলের তাবড় পর্যবেক্ষকদের।