বর্ষায় শিশুর সুস্থতা নিয়ে কপালে চিন্তার ভাঁজ? অজান্তেই এই ভুলগুলি করছেন না তো? রইল চাইল্ড স্পেশালিস্টের মোক্ষম পরামর্শ

বর্ষাকাল মানেই একদিকে যেমন ভ্যাপসা গরম থেকে স্বস্তি, অন্যদিকে তেমনই শিশুদের নানা ধরনের সংক্রমণজনিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়া। এই মৌসুমে আমাশয়, ডায়রিয়া, জ্বর, বমি, সর্দি-কাশির মতো শারীরিক সমস্যায় প্রায়ই আক্রান্ত হয় ছোটরা। প্রধানত অপরিষ্কার জল, দূষিত খাবার এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মাধ্যমেই ক্ষতিকর জীবাণু শিশুদের শরীরে প্রবেশ করে পেটের জটিল রোগ সৃষ্টি করে। তাই এই বর্ষাকালে শিশুদের সুস্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধ নিয়ে অভিভাবকদের অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশিষ্ট চাইল্ড স্পেশালিস্ট ডা. তৃষিতা বসাক।
বিশেষজ্ঞের মতে, বর্ষার দিনে শিশুকে সর্বদা ফোটানো বা বিশুদ্ধ জল পান করাতে হবে। রাস্তাঘাটে বিক্রি হওয়া কাটা ফল, খোলা খাবার বা দীর্ঘক্ষণ আগে রান্না করা খাবার শিশুদের খাওয়ানো থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে। যেকোনো খাবার খাওয়ার আগে এবং শৌচাগার ব্যবহারের পর ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস ছোটবেলা থেকেই গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি, শিশুর ব্যবহারের জলের বোতল, দুধের ফিডার, প্লেট ও চামচ নিয়মিত গরম জলে ফুটিয়ে পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি। বর্ষাকালে আমাশয় বা ডায়রিয়া দেখা দিলে শরীর থেকে দ্রুত জল ও লবণ বেরিয়ে যায়, যার ফলে ডিহাইড্রেশনের মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়। পাতলা পায়খানা বা বমি হলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওআরএস (ORS) খাওয়াতে হবে। যদি শিশুর প্রস্রাবের পরিমাণ হঠাৎ কমে যায়, অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দেয়, চোখ বসে যায় কিংবা অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি লক্ষ্য করা যায়, তবে বিন্দুমাত্র দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া বাঞ্ছনীয়।
পাশাপাশি, এই মৌসুমে শিশুদের মধ্যে ভাইরাল জ্বরের প্রাদুর্ভাবও বেশ বেড়ে যায়। তাই সামান্য জ্বর হলেই নিজের ডাক্তারি ফলিয়ে দোকান থেকে কিনে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক বা যত্রতত্র ওষুধ না খাইয়ে অবশ্যই চিকিৎসকের সঠিক পরামর্শ নেওয়া উচিত। বাড়ির আশপাশে যাতে কোথাও বৃষ্টির জল জমে মশার বংশবিস্তার না ঘটে, সেদিকেও বিশেষ নজর রাখতে হবে। ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ থেকে বাঁচাতে শিশুদের সবসময় মশারি টাঙিয়ে শোয়ানো এবং শরীর ঢাকা পোশাক পরানো অত্যন্ত জরুরি। ডা. তৃষিতা বসাক স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, বর্ষাকালে শিশুকে সুরক্ষিত রাখার মূল চাবিকাঠি হলো পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, নিরাপদ খাবার ও জল দেওয়া, এবং যেকোনো জটিল উপসর্গ দেখা দিলে সময়মতো চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া। শিশুর ক্রমাগত জ্বর, বারবার বমি, রক্তযুক্ত পায়খানা, শ্বাসকষ্ট বা খাওয়া দাওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো মারাত্মক লক্ষণ দেখলে কালক্ষেপণ না করে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে নিয়ে যান।